Advertisement
E-Paper

মুম্বইয়ের মতো সম্মান টলিউডে নেই, শিল্পীদের সহজলভ্য ভাবার প্রবণতাটা কমানো দরকার: সৌরসেনী

মডেলিং আর মার্জার সরণি— পেশাজীবন এ ভাবেই শুরু। এর পরে ‘চিটাগং’ ছবি দিয়ে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ। কলকাতার পাশাপাশি বলিউডেও বেশ কয়েকটি কাজ তাঁর ঝুলিতে। এখনও বেছে ছবি করতে ভালবাসেন। আপাতত তিনি সিঙ্গল, প্রেম করার সময় নেই তাঁর। আর কী বললেন সৌরসেনী মৈত্র?

অনসূয়া বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ০৯:১৩
আমি সিঙ্গল, প্রেম প্রস্তাবও তেমন আসছে না: সৌরসেনী

আমি সিঙ্গল, প্রেম প্রস্তাবও তেমন আসছে না: সৌরসেনী গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

মাত্র ৯ বছর বয়সে মডেলিং দিয়ে তাঁর কেরিয়ার শুরু। অভিনয়ে মাত্র ১৬ বছরেই আত্মপ্রকাশ করেন। তবে অভিনয়ই যে ভবিষ্যতে তাঁর পেশা হবে, তা ছোটবেলায় ভাবেননি সৌরসেনী মৈত্র। এখন তিনি এই প্রজন্মের পরিচিত নাম। অভিনয়ের প্রথাগত শিক্ষা নেই, নিজেকে এখনও ‘নন টেকনিক্যাল’ অভিনেত্রী বলে মনে করেন। সম্প্রতি তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘নিব্বা নিব্বি’ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেখানে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন নায়িকা। ছবির প্রচার সবে শেষ হয়েছে। বৃষ্টিভেজা সকালে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন সৌরসেনী।

মডেল জীবন

বিজ্ঞাপনের জগত থেকে ধীরে ধীরে অভিনয়ে আসা সৌরসেনীর। মডেলিং জীবন চুটিয়ে উপভোগ করেছেন। মডেলিং মানে তাঁর কাছে ঘরে ফেরাও। নায়িকা বলেন, ‘‘সামনে পুজো আসছে। আমি মডেল জীবন খুব একটা যে মিস করি তা নয়। কারণ, আমার মেকআপ আর্টিস্ট বা যিনি স্টাইলিং করেন, তাঁরা সকলেই আমার সেই সময়ের পরিচিত। তবে হ্যাঁ, এখন পুজো আসছে। আগে মার্জার সরণিতে হাঁটতাম, মেকআপ রুমে আড্ডা হত, রোমাঞ্চ থাকত, তাড়াতাড়ি পোশাক বদলে নানা পোশাক পরতে হবে, সেটা মিস করি। এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হই, তাদের জন্য শুট করি। সেটাও খানিকটা ঘাটতি পূরণ করে। এই যে কয়েক দিন আগেই অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সেখানেও আমরা আলোচনা করছিলাম, ওঁর ডিজ়াইন করা পোশাকে আমি কত শুটিং করেছি, মার্জার সরণিতে হেঁটেছি।’’ মডেলিং জীবন চুটিয়ে উপভোগ করেছেন।

 মডেলিং জীবন চুটিয়ে উপভোগ করেছেন সৌরসেনী।

মডেলিং জীবন চুটিয়ে উপভোগ করেছেন সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

মুম্বইয়ে কাজের ধরন

মডেলিং এবং বিজ্ঞাপনী ছবি করতে করতেই অভিনয়ের দরজা খুলে যায় সৌরসেনীর। ২০১২ সালে বেদব্রত পাইনের ‘চিটাগং’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ সৌরসেনীর। পাশাপাশি, মুম্বইয়েও কিছু বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। মুম্বইয়ের পরিবেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নায়িকা বলেন, ‘‘মুম্বইয়ের পরিবেশ আমাদের মতোই। অবশ্যই বাজেটের দিক দিয়ে খানিকটা আলাদা। আর মুম্বই পদ্ধতিগত ভাবে এগিয়ে। আমাদের এখানে একটু গোছানো হতে হবে। একটা বিকল্প পরিকল্পনা থাকাটা খুব জরুরি, যাতে সময় নষ্ট না হয়। শিল্পীদের সহজলভ্য ভেবে নেওয়াটা একটু সমস্যার বিষয়। টেকনিশিয়ানরাও খুব প্রতিভাবান সে বিষয় কোনও সন্দেহ নেই। আর হ্যাঁ, আর একটা জিনিস। মুম্বইয়ের থেকে শেখার, শুধু প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়া জুনিয়র আর্টিস্টরাও যে একই কাজ করতে এসেছেন, তাঁদেরও যে সম্মান প্রাপ্য, সেটা মুম্বইয়ে মাথায় রাখা হয় সবসময়।’’

শিল্প বিষয়টা মানুষের ভিতরে থাকে, কাউকে শেখানো যায় না: সৌরসেনী।

শিল্প বিষয়টা মানুষের ভিতরে থাকে, কাউকে শেখানো যায় না: সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

অভিনয়ের প্রশিক্ষণ

প্রথাগত অভিনয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজ করতে করতে অভিনয় শেখার পথ বেছে নিয়েছেন সৌরসেনী। তাই তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক বোধহয় চরিত্র নির্বাচনের বৈচিত্র্য। প্রচলিত নায়িকার ছকের মধ্যে নিজেকে আটকে না রেখে বার বার ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। সৌরসেনীর কথায়, ‘‘আমি কখনও অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিইনি। মঞ্চে অভিনয়ও করিনি। আমি মনে করি, শিল্প বিষয়টা মানুষের ভিতরে থাকে, কাউকে শেখানো যায় না। টেকনিক্যাল দিকগুলো অবশ্যই শিখতে হয়, যা এখনও আমি শিখে উঠতে পারিনি। কী ভাবে লাইট নিতে হয়, কী ভাবে ক্যামেরায় চিট করতে হয়, ফ্রেম ইন, ফ্রেম আউট, এই সব বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত শিখি। তবে সবার আগে চরিত্রটা হয়ে ওঠার প্রতি নিষ্ঠা থাকা খুব জরুরি। আমার জীবনের প্রথম অডিশন ছিল ‘চিটাগং’-এ। এর পর ‘আমরিকা’ ছবিটা করার সময় মুম্বইয়ে গিয়ে অডিশন দিই। তখন মনে হল এই পেশাটাকে ভালবেসে ফেলেছি। এরপরই আসল শেখা শুরু হল। সিনিয়র অভিনেতাদের কাছ থেকে শিখেছি। অনীক দত্ত, প্রতীম ডি গুপ্ত, মৈনাক ভৌমিক, সৃজিত মুখোপাধ্যায়দের সঙ্গে কাজ করার পরে এখনও নতুন নতুন পদ্ধতি শিখছি।’’

ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা পার্বতীর চরিত্রে সৌরসেনী।

ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা পার্বতীর চরিত্রে সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্র

বর্তমান প্রজন্মের ভাবনার মোড়কেই পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘নিব্বা নিব্বি’। মুখ্য চরিত্রে অভিনেতা ঋষভ বসু এবং সৌরসেনী মৈত্র। ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা পার্বতী মজুমদার। কিন্তু সন্তানসম্ভবা হওয়া সত্ত্বেও যা যা নিয়ম মানতে হয়, সে সব নিয়মের ধারপাশ দিয়েও যায় না সে। সঙ্গী দেবা দাস, তার স্বামী। প্রথম অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্র, কী ভাবে তৈরি হলেন সৌরসেনী? নায়িকা জানান, ‘‘তৈরি হওয়ার জন্য যে খুব বেশি সময় পেয়েছি তা নয়। তবে আমাকে পেটে পরার জন্য একটা প্রস্থেটিক দেওয়া হয়েছিল। সেটা নিয়েই চলা অভ্যাস করতাম। বাড়িতেও প্রস্থেটিকে তৈরি পেট নিয়ে আমি হাঁটতাম। কষ্টটা কী রকম হয় সেটুকুই অনুভব করার জন্য, যাতে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। যখন অভিনয় করছি, যাতে অভিনয় করছি না মনে হয়। দর্শকের কাছে যাতে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারি সেটুকুই। আমি সেটা পরে টানা ওয়ার্কশপও করেছি।’’

নারীশক্তি

‘নিব্বা নিব্বি’ ছবিতে এক নারীর হাতে অস্ত্র। নারীশক্তির নানা রূপ ছবিতে উঠে আসে। এখানেও পরিচালক স্টিরিয়োটাইপ ভাঙার চেষ্টা করেছেন। আসলে এই চরিত্রটি সামাজিক ট্যাবুগুলো ভাঙার চেষ্টা করেছেন। নায়িকার কথায়, ‘‘এখানে ঋষভের হাতে বন্দুক নেই। আমার হাতে রয়েছে। রূপকের মধ্যে দিয়ে এটাও একটি বার্তা। এই চরিত্রটি ছবিতে মানুষ মারছে ঠিকই, কিন্তু আসলে এই ভাবনাগুলোকে মারছে। নতুন প্রজন্মের চোখ দিয়ে নতুন ভাবনা ছড়িয়ে যাচ্ছে সকলের মধ্যে। সম্প্রতি এই ছবির প্রচারে গিয়ে এক জন নারীর প্রতিক্রিয়া পেলাম। এক জন বয়স্ক মহিলা দর্শক বললেন, ‘সিনেমাটা দেখতে শুরু করেছিলাম, দেখলাম সৌরসেনী যা অশ্লীল কথা বলছে’। মানে ওঁর সমস্যা হল, এক জন নারী অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছে। ঋষভও যে ব্যবহার করছে সেটা ওঁর চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কারণ, এক জন পুরুষ অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করলে কোনও অসুবিধা নেই, এমনটাই হয়ে এসেছে সমাজে। আসলে এক জন নারী স্বাধীনতা খর্ব করার পিছনে শুধু পুরুষ থাকেন না, অনেক সময় নারীরাও থাকেন। তবে আমার জীবনে নারীশক্তির প্রকৃত রূপ আমার মা।’’

 আমার জীবনে নারীশক্তির প্রকৃত রূপ আমার মা: সৌরসেনী।

আমার জীবনে নারীশক্তির প্রকৃত রূপ আমার মা: সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাকশন করা পছন্দের

নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অ্যাকশন থাকলে তা খানিকটা ‘চেরি অন দ্য টপ’। সৌরসেনীরও অ্যাকশন খুব পছন্দ। এই ছবিতে যে ভাবে অ্যাকশন দৃশ্য সাজানো হয়েছে তা বেশ মনে ধরেছে নায়িকার। অ্যাকশন দৃশ্যের কথা তুলতেই প্রতিবেদককে থামিয়েই সজোরে হেসে বলতে শুরু করেন, ‘‘আমার অ্যাকশন খুব পছন্দের। খুব মজা হয়। এখানেও রয়েছে দারুণ অ্যাকশন দৃশ্য। হিংসাও রয়েছে খানিক। যদিও আমি হিংসার বিরুদ্ধে। আর সম্প্রতি আমরা দেখেছি এই প্রজন্মের যুব সমাজকে প্রতিবাদ করতে। কোনও হিংসা ছাড়া প্রতিবাদের এক অন্য দিকে খুলে দিয়েছে আমাদের সামনে। আমি যখন অভিনয় করছি তখন অন্য মানুষের চরিত্র করছি, অন্য এক জনের জীবন বাঁচছি পর্দায়। ব্যক্তিগত জীবনে আমি খুবই সহানুভূতিশীল এক জন মানুষ। তাই বাস্তবে হয়তো একটা পিঁপড়েও মারতে পারব না। কিন্তু এক জন মানুষ হিসাবে কখনও না কখনও রাগ তো হয়, এই অ্যাকশন দৃশ্যের মাধ্যমে সেই রাগগুলো বেরিয়ে আসে আমার।’’

এক জন নারীর স্বাধীনতা খর্ব করার পিছনে শুধু পুরুষ নন, নারীরাও থাকেন: সৌরসেনী।

এক জন নারীর স্বাধীনতা খর্ব করার পিছনে শুধু পুরুষ নন, নারীরাও থাকেন: সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

কাজ বাছাই, প্রশংসা এবং উপদেশ

প্রশংসা আরও ভাল কাজ করতে সাহায্য করে। আর উপদেশ সঠিক পথ দেখায়। ইন্ডাস্ট্রিতে সৌরসেনী অভিনেত্রী হিসাবে বেছে কাজ করেন। যে চরিত্রে তাঁর কিছু দেওয়ার আছে সেই চরিত্রই বেছে নেন। নায়িকার মতে, ‘‘আমি কম কাজ করি। মাসকাবারির মতো করে ছবি করা পছন্দ নয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শুধু ভরিয়ে কী করব আর? আসলে তো চরিত্রগুলো দর্শকের ভাল লাগছে কি না সেটাও দেখার। এই ছবি দেখে শান্তিজেঠুর (শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়) কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছি। ওঁর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া আমার কাছে অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। সৃজিতদা (সৃজিত মুখোপাধ্যায়) কয়েক দিন আগে মজা করে আমায় বলছিলেন, ‘তোর সামনে তো কথা বলা যাবে না। হঠাৎ করে বলে বসবি তুমি ফরম্যাট ভেঙে আমায় গুপি-বাঘায় বাঘার চরিত্রটা দাও’। (হাসি) যদিও আমি এমনই। আর প্রশংসায় শুধু বয়ে যাই না আমি। উপদেশও আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ‘মাছের ঝোল’ ছবি করার পর ঋত্বিকদা আমাকে একটা পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘খুব ভাল কাজ হয়েছে। দেখিস, মাথাটা ঘুরে না যায়। এ বার কিন্তু না বলতে শিখতে হবে সৌরসেনী। অভিনয়ের আরও চর্চা কর’। আমি তাই নিজেকে এখনও চিনছি, নিজেকে এক্সপ্লোর করছি।’’

বিব্রত হওয়ার মতো প্রস্তাব

টলিউডে নানা ধরনের প্রস্তাব নায়িকাদের কাছে আসে। সম্প্রতি এমন নানা অভিযোগ জনসমক্ষে উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে সৌরসেনীর সাফ জবাব, ‘‘না, কখনও উল্লেখ করার মতো কুপ্রস্তাব পাইনি। তবে হ্যাঁ, বিব্রত এবং বিরক্ত হই মাঝেমধ্যেই, যখন প্রযোজক বা প্রযোজনা সংস্থা বলে, ‘বাজেট নেই’। কখনও কখনও তো শুনতে ইচ্ছে করে যে ‘বাজেট আছে’!’’

একজন শিল্পীর না বলতে পারাটা খুব জরুরি: সৌরসেনী।

একজন শিল্পীর না বলতে পারাটা খুব জরুরি: সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

শাহরুখের সঙ্গে দেখা

সৌরসেনীর ‘স্বপ্নপুরুষ’ শাহরুখ খান। তাঁর প্রথম ‘ভালবাসা’ও। ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ তাঁর পছন্দের ছবি। প্রশ্ন শেষ করার আগেই গলায় উত্তেজনা ঝরে পড়ল তাঁর। নায়িকা বলতে থাকেন, ‘‘প্রশ্নটা করার আগে নাম শুনেই আমি উত্তেজিত হয়ে গিয়েছি। আমি খুব ভালবাসি শাহরুখকে। প্রথম বার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখা হয়েছিল আমাদের। একটা ছবি তুলেছিলাম। সেই ছবি আমার বাড়িতে বাঁধানো আছে। ছবিটার সঙ্গে আমি মাঝেমধ্যে কথাও বলি। এর পরে মণীশ মলহোত্রের দিওয়ালি পার্টিতে দু’বার দেখা হয়েছে। প্রথম বার আমি প্রণাম করলাম আমার ভগবানকে। উনি গাল টিপে আদর করেছিলেন। আমি ওঁকে সরাসরি বলেছিলাম, ‘স্যার, আমি তো আর মেকআপ তুলব না, স্নানও করব না সাত দিন’। তিনি বলেছিলেন, ‘দূর পাগল মেয়ে, আরও ভাল কাজ করো! মণীশের কাছে তোমার কথা শুনেছি। আরও উন্নতি করো জীবনে’। অনেকে বলেন, প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা কোরো না, মোহভঙ্গ হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। শাহরুখের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে ওঁর প্রতি সম্মান আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রত্যেক মানুষকে যে শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেন তা সত্যিই শিক্ষণীয়।’’

শাহরুখ খান আমার ভগবান, আমার প্রথম ভালবাসা: সৌরসেনী।

শাহরুখ খান আমার ভগবান, আমার প্রথম ভালবাসা: সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং অ্যাপ, প্রেম, বিতর্ক

এই প্রজন্ম ‘ডেটিং অ্যাপ’ থেকে সঙ্গীকে বেছে নেয়। সৌরসেনীও সম্পর্কে ছিলেন, মন ভেঙেছে, ফের নতুন করে পথ চলা শুরু করেছে। এখন নায়িকা সিঙ্গল, না কি কমিটেড? এককথায় সৌরসেনীর উত্তর, ‘‘আমি একদম সিঙ্গল। কারণ, আমার কাছে সময় নেই প্রেম করার। প্রচুর প্রস্তাব আসছে এমনটাও নয় (হাসি)। তবে হ্যাঁ, সঙ্গী বাছতে হলে দু’টো মানুষের ভাল থাকার প্রয়োজন। আমি কখনও একত্রবাস করিনি। আমি বিশ্বাস করি, একসঙ্গে যখন দু’জনের মন বলবে, তখনই একসঙ্গে থাকা উচিত। দু’টো মানুষের পরিবার রাজি হলে আর একে অপরের প্রতি ভালবাসা আর সম্মান থাকলে কিছুতেই সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’’

আমি একদম সিঙ্গল, কারণ প্রেম করার সময় নেই : সৌরসেনী।

আমি একদম সিঙ্গল, কারণ প্রেম করার সময় নেই : সৌরসেনী। ছবি: সংগৃহীত

প্রেম নিয়ে বিতর্কও হয়েছে তাঁকে ঘিরে। নুসরত জাহানের প্রাক্তন স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল তাঁর। যদিও সৌরসেনী বার বারই জানিয়েছেন, তাঁরা একে অপরের বন্ধু এবং কাজের সূত্রেই সম্পর্ক। নায়িকা বলেন, ‘‘যাঁরা নেতিবাচক কথা বলেছেন, তাঁরা সেটা কাটিয়ে উঠেছেন, এটা ভাল লাগে। তাঁদের শুভবুদ্ধি হয়েছে। আমার কাটিয়ে ওঠার বিষয় ছিল না। কারণ, আমি নিজের উপর প্রভাব ফেলি না। নিখিল এখনও আমার বন্ধু। আর পেশাদারিত্ব রেখেই আমি ওঁর ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করেছিলাম। আবার ডাকলে আবার করব।’’

সৌরসেনী বলে চলেন, ‘‘তারকাদের নিয়ে কথা বলা এখন ট্রেন্ড। আমার মধ্যে এর প্রভাব পড়ে না। আমি বরং কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যেই সোলো ট্রিপে চলে যাই। সম্প্রতি ছবির শুটিং শেষ করেই আমি গোয়া গিয়েছিলাম। আমার এক বন্ধু থাকে। সেখানে মৃৎশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। মনটা শান্ত করেছি। আমাদের মনের যত্ন নেওয়া খুব প্রয়োজন। সেটা করলে সব ইতিবাচক দিকে মনোনিবেশ করা যায়।’’

Sauraseni Maitra Tollywood New Web series model

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy