ছোটপর্দায় যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘জয়ী’ ধারাবাহিকে। মীরাবাঈয়ের চরিত্রেই তাঁকে বেশি পছন্দ করেছেন দর্শক। দেবাদৃতা বসু বর্তমানে ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে পল্লবীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। পরমব্রতের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ধারাবাহিকে। ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োয় শুটিংয়ের এক ফাঁকে আড্ডা জমালেন দেবাদৃতা।
মীরাবাঈয়ের চরিত্রে নজর কেড়েছিলেন দেবাদৃতা। ছবি: সংগৃহীত
এক বৃষ্টিমুখর বিকেলে ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োয় পৌঁছে চেনা চিত্রটা ছিল বেশ অচেনা। তখন মুষলধারে বৃষ্টি। এক দিকে ধারাবাহিকের প্রোমোর পোস্টার মাটিতে পড়ে ভিজছে। অন্য দিকে একটি সারমেয় বৃষ্টির ছাট থেকে নিজেকে বাঁচানোর প্রবল চেষ্টায় শেড খুঁজে নিচ্ছে। ছাতা মাথায় ধীরে ধীরে ‘কমলা নিবাস’-এর সেটের দিকে পৌঁছোতেই দু’ধারে একের পর এক গুমটি দোকান চোখে পড়ে। কোনওটা চায়ের দোকান, কোনওটা আবার ফুলের— সবটাই সেটের অংশ। একটু এগোলেই ‘কমলা নিবাস’ লেখা বাড়িটি চোখে পড়ে। পরিবেশটাই একেবারে আলাদা। শুটিং সেটে উঁকি দিতে নায়িকার দেখা মিলল না। প্রোডাকশন ম্যানেজার জানালেন, আপাতত দেবাদৃতার শুটিং নেই, তাই তিনি মেকআপরুমে।
টলিপাড়ার পরিচিত মুখ দেবাদৃতা বসু। বর্তমানে ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে পল্লবীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁর ছোটপর্দায় যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘জয়ী’ ধারাবাহিকে। মীরাবাঈয়ের চরিত্রেই তাঁকে পছন্দ করেছেন দর্শক। এই ধারাবাহিকে প্রথমে পরমব্রতের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন তিনি। এখন গল্পে এসেছে নতুন মোড়। নায়িকার দেখা পাওয়া গেল মেকআপরুমে। ফোনে ব্যস্ত। একগাল হেসে মজার মধ্যে দিয়েই শুরু হল আড্ডা।
প্রেমিক রাহুল দেব বোসের সঙ্গে দেবাদৃতা। ছবি: সংগৃহীত
ধারাবাহিকে প্রচুর ব্যস্ততা থাকে। প্রেমিকের সঙ্গেও এখন খানিকটা লং ডিসট্যান্স সম্পর্ক, সামলানো কঠিন হচ্ছে। নায়িকার সাফ জবাব, ‘‘এটা একটু কষ্টদায়ক তো অবশ্যই। যদিও রাহুল একেবারে সময় দেয় না, তা নয়। ও খুব ভাল ব্যালান্স করতে জানে। এখন কলকাতায় এসেছে কাজে, আবার মুম্বই যাবে। একেবারে পুরোপুরি শিফ্ট করে যায়নি, যাতায়াত রয়েছে, তাই অতটাও বুঝতে পারছি না এখনও। কথা হচ্ছে, আমরা যেমন একে অপরের সঙ্গে কাজ এবং কাজের বাইরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আড্ডা দিই, তেমনই আড্ডা দিচ্ছি।’’
অভিনেত্রী নাচ জানলে কোরিওগ্রাফারেরাও স্বস্তি পান: দেবাদৃতা। ছবি: সংগৃহীত
ধারাবাহিকে শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁর শট না থাকলে সহশিল্পীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় সময় কাটে দেবাদৃতার। আর মাঝেমধ্যে বই পড়তেও ভালবাসেন তিনি। তবে সব সময়ে বই পড়ার মানসিকতা থাকে না, আর খুব সময়ও পান না। তবে গান শুনতে সবসময় ভাল লাগে অভিনেত্রীর। তিনি আট বছর বয়স থেকে নাচ আর নাটক শেখেন। অভিনেত্রী না হলে নৃত্যশিল্পী হতেন দেবাদৃতা। তাই পরিবারকে সময় দেওয়ার পর নাচে মন দেন। আগামী দিনে নাচ নিয়ে এগোতেও চান। অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি পেশাদার নৃত্যশিল্পী হতে চান তিনি। নায়িকা বলেন, ‘‘ছোট থেকে কত্থক শিখেছি আমি। এ ছাড়াও রবীন্দ্রনৃত্য, নজরুলনৃত্য শিখেছি। এ ছাড়াও বলিউড ফ্রি-স্টাইলও জানি, এখনও শিখছি। অভিনেত্রী নাচ জানলে সুবিধা হয়। নাচের দৃশ্য থাকলে কোরিওগ্রাফারেরাও স্বস্তি পান। তাঁরা নিজেদের মতো করে বুঝিয়ে দিতে পারেন নায়িকাকে।’’
‘কমলা নিবাস’-এ পরমব্রতর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভাল: দেবাদৃতা। ছবি: সংগৃহীত
ধারাবাহিকের গল্প কোন দিকে মোড় নিয়েছে? অভিনেত্রী বলেন, ‘‘পল্লবী-সাগর হিসাবে পর্দায় এসেছি আমি আর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ওঁর সঙ্গে জুটি বাঁধার অভিজ্ঞতা খুব ভাল। তবে সাগরের মৃত্যুর পর গল্প নতুন মোড় নিয়েছে। সাগরের সন্তানকে পল্লবী দত্তক নিয়েছে। বন্ধু হিসাবে এখন আদিত্যকে কাছে পেয়েছে। পল্লবীর জীবনে নানা কিছু ঘটছে, তাঁর কাছেও নানা সন্দেহ রয়েছে। আবার মিঠির সঙ্গে ধারাবাহিকের বাইরেও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। এ ছাড়াও এই ধারবাহিকের অগ্রজ শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বেশ ভাল। তাঁদের কাছে প্রত্যেক মুহূর্তে শিখছি। দেবশঙ্কর হালদার এবং সোহিনী সেনগুপ্তের কাছে অভিনয় শেখা আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, আমি আশীর্বাদধন্য।’’