আলো–আঁধারির পথ পেরিয়ে আবার ক্যামেরার সামনে মাধবী মুখোপাধ্যায়। বড়পর্দায় তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল অনীক দত্তের ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ ছবিতে। দীর্ঘ বিরতির পর ফের সিনেমার সেটে ফিরলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। পরিচালক শ্যামল বসুর নতুন ছবি ‘দূরত্ব’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ইতিমধ্যেই কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ছবির শুটিং।
ছবির গল্পের কেন্দ্রে এক মা ও তাঁর মেয়ের সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া পারিবারিক সমীকরণ, কর্মব্যস্ত জীবনে প্রিয়জনদের জন্য সময়ের অভাব এবং সেই সূত্রে তৈরি হওয়া মানসিক দূরত্ব— এই আবহেই এগোবে ছবির কাহিনি।
নিজের চরিত্র সম্পর্কে মাধবী মুখোপাধ্যায় জানান, ছবিতে তিনি এমন এক মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন, যাঁর জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সন্তানের জন্য অপেক্ষা। সন্তান বড় হয়ে নিজের সংসার ও কাজের ব্যস্ততায় ডুবে গেলে বাবা–মায়েরা যে নিঃসঙ্গতার মুখোমুখি হন, সেই পরিচিত বাস্তবকেই তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। তাঁর কথায়, এটি এমন একটি গল্প, যার সঙ্গে অনেক পরিবারেরই মিল খুঁজে পাওয়া যাবে।
শুটিংয়ের ফাঁকেই নতুন বাংলা ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মকে একটু সাহিত্য পড়তে বলব। আগে তো সাহিত্যনির্ভর কাহিনিই হত। তাই বর্তমান যুগের পরিচালকদের সাহিত্য পড়তে বলব।”
মেয়ের চরিত্রে রয়েছেন অভিনেত্রী সঙ্গীতা দাস। তাঁর মতে, গল্পে মা–মেয়ের সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও তা অবহেলার নয়। বরং বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনই দুই প্রজন্মের মধ্যে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করে। সেই দূরত্ব কী ভাবে কমে, তা-ই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপঙ্কর দে। তিনি মাধবীর প্রতিবেশীর ভূমিকায়। বয়সের শেষ পর্বে দুই মানুষের আন্তরিক বন্ধুত্ব, একে অপরের কাছে নির্ভরতার জায়গা হয়ে ওঠা এবং নিঃসঙ্গতার মধ্যে মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা— ছবির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হয়ে উঠবে এই সম্পর্ক।
অনেক দিন পর পরিচালনায় ফিরছেন শ্যামল বসুও। সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপড়েন এবং মানসিক আবেগকে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি হচ্ছে ‘দূরত্ব’। আপাতত জোরকদমে চলছে ছবির শুটিং। কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনও নির্মাতাদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।