মুক্তির আগে বড়সড় ছাড়পত্র। যশ অভিনীত ‘টক্সিক’ ছবিকে ‘এ’ (অর্থাৎ, কেবল প্রাপ্তবয়স্কেরাই প্রেক্ষাগৃহে এই ছবি দেখতে পারবেন) শংসাপত্র দিয়ে মুক্তির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড (সিবিএফসি)। ছবির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট। তবে চমক অন্যত্র— এত হিংসাত্মক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি বলে যে ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে, সেই ছবির একটি দৃশ্যেও চলেনি কাঁচি।
জানা গিয়েছে, ছবির কন্নড় সংস্করণে মাত্র দু’টি শব্দ বা বাক্যাংশ বদলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি সাবটাইটেলেও তার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ছবিতে ধূমপান ও মদ্যপানের দৃশ্য থাকলে নিয়মমাফিক সতর্কবার্তা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে কোনও দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ নেই।
ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও ছাড় পেয়েছে ছবি। ছবি: সংগৃহীত।
স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। কারণ, সম্প্রতি হিংসাত্মক দৃশ্যের জন্য একাধিক ভারতীয় ছবিকে সেন্সর বোর্ডের কাঁচির মুখে পড়তে হয়েছে। সেই জায়গায় ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে এমন ছাড়পত্র অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। বিশেষ করে ‘ধুরন্ধর’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে— দুই ছবির বিষয়বস্তু ও হিংসার মাত্রা নিয়ে যখন আলোচনা হয়েছে, তখন সেন্সর-নীতিতে এতটা পার্থক্য কেন?
ছবিতে ঘনিষ্ঠ এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়েও মুক্তির আগে থেকেই আলোচনা চলছে। নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ফলে ‘টক্সিক’-এর সেন্সর-ছাড়পত্রকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ব্যঙ্গবিদ্রুপও কম হয়নি। কারও মতে, হিংসা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও পর্দায় চুম্বন বা ঘনিষ্ঠদৃশ্য নিয়ে সেন্সর বোর্ডের মনোভাব বরাবরই অন্য রকম।
কিয়ারা-যশের সমীকরণ নিয়ে আগ্রহী অনুরাগীরা। ছবি: সংগৃহীত।
ছবির প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু নিয়ে অবশ্য আগেই সতর্ক করেছিলেন খোদ যশ। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ছবি শিশুদের জন্য নয়। প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের জন্যই তৈরি হয়েছে ‘টক্সিক’। ছবির গল্প কী ভাবে গ্রহণ করবেন, তা দর্শকের নিজস্ব বিচারবোধের বিষয়—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিনেতা।
‘টক্সিক’-এর পরিচালক গীতু মোহনদাস। ছবিতে যশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন নয়নতারা, কিয়ারা আডবাণী, হুমা কুরৈশী, রুক্মিণী বসন্ত এবং তারা সুতারিয়া। একাধিক ভাষায় ২৬ অগস্ট মুক্তি পাবে এই ছবি।