‘কী মশাই, কেমন আছেন?’ বাঙালির ঘরে-বাইরে আজও এই ডাক খুবই পরিচিত। পাড়ার দোকান থেকে চায়ের আড্ডা, ‘মশাই’ শব্দটি হয়ে উঠল কাউকে সম্মান জানানোর সহজ এবং আপন ভঙ্গি।
কিন্তু জানেন কি, বাঙালির মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো এই শব্দটি আসলে নিজেই বাঙালি নন! আসলে ‘মশাই’ শব্দটি পৃথক কোনও শব্দ নয়। বরং এটি ‘মহাশয়’ শব্দেরই কথ্য রূপ। যেটির শিকড় জড়িয়ে সংস্কৃতে। বাঙালির স্বাভাবিক কথ্য উচ্চরণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃত শব্দ ‘মহাশয়’ বদলে গিয়ে হয়ে গেল ‘মশাই’।
‘মহাশয়’ বলতে আগে বোঝাত খুব মহৎ বা উদার ব্যক্তিকে। কাউকে শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্বোধন করার সময়ে ব্যবহৃত হত এই শব্দটি। উচ্চরণের সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে এই শব্দের মাঝের ‘হ’ ধ্বনিটি ঝরে গিয়ে শব্দটি ‘মশাই’-এর কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। কালের নিয়মে এই ভাবেই কথ্য ও ঘরোয়া রূপ নিয়ে নেয় এটি।
এখানেই শেষ নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘মশাই’ জুড়ে গিয়েছেন আরও কত শব্দের সঙ্গে। যার ফলে তৈরি হয়েছে নতুন শব্দ। যেমন ‘মাস্টারমশাই’, ‘গুরুমশাই’ ইত্যাদি। যেন এই ভাবেই কোনও পেশার মানুষের সঙ্গে ‘মশাই’ যোগ করলে সেটি হয়ে যায় সম্মান জানানোর অন্যতম ভঙ্গি। পরবর্তীকালে যদিও এটি রসিকতা অথবা বিরক্তির সুরেও ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি সেই সঙ্গে বাংলার শব্দভাণ্ডারে জুড়েছে সম্বোধনের আরও নতুন ভাষা। আধুনিক সময়ে জায়গা করে নিয়েছে ‘স্যার’, ‘মিস্টার’-এর মতো শব্দগুলি। এমন বহু অজানা তথ্য এবং নামের হদিস মিলবে আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ’ খেলায়।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।