লেক টাউন। শহরের অন্যতম ঝাঁ চকচকে এই জায়গার নাম শোনেননি, এমন কলকাতাবাসী খুব কমই আছেন। কিন্তু জানেন কি, এই ঝাঁ চকচকে শহরের এমন এক প্রান্ত ছিল, যা পুরোটাই ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত। নোংরা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ এই এঁদো গলি এক সময়ে পরিচিত ছিল ‘ব্ল্যাক টাউন’ হিসেবে। যদিও এর নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে আরও এক বিশেষ কারণ।
সে বহুকাল আগের কথা। কলকাতায় তখন ব্রিটিশদের রাজ। আজকের চেনা কলকাতা শহরে এই দৃশ্যটা সেই সময়ে ছিল একেবারেই আলাদা। ১৭ এবং ১৮ শতকে ব্রিটিশরা কলকাতাকে মূলত ভাগ করেছিল দুই ভাগে। ‘হোয়াইট টাউন’ এবং ‘ব্ল্যাক টাউন’।
‘হোয়াইট টাউন’ ছিল ইউরোপীয়, বিশেষ করে ব্রিটিশদের বসবাসের এলাকা এবং ওই ‘ব্ল্যাক টাউন’এ থাকতেন এই দেশের শ্যামবর্ণ বা কালো চামড়ার মানুষেরা। স্পষ্টত বলাই যায়, ‘ব্ল্যাক টাউন’ নামটি ভারতীয়দের দেওয়া নাম নয়। এটি আসলে ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের বর্ণভিত্তিক ও সামাজিক বিভাজনের প্রতিফলন। বলা হয়, বর্তমানের উত্তর কলকাতার বড় বাজার, শোভাবাজার, জোড়াসাঁকো, চিৎপুর, কুমোরটুলি-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নাকি ছিল এই অংশের অন্তর্ভুক্ত।
সেই সময়ে এখানকার মানুষদের নীচু চোখে দেখা হলেও জানা যায়, এটিই নাকি ছিল কলকাতা শহরের প্রকৃত স্পন্দন। বাজার, কারুশিল্প এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনই ছিল এই অঞ্চলের পরিচয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্ণ বিভাজনের সঙ্গে এই ‘ব্ল্যাক টাউন’ নামটাও এক সময়ে হারিয়ে যায়।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।