ভাষাবিদরা জানান, কোনও ভাষার শব্দ হারিয়ে যাওয়া কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। সমাজ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিবর্তনের সঙ্গে বাংলার শব্দভাণ্ডারেও পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। অপর দিকে ইংরেজি ভাষার প্রভাব ও কথ্য বাংলার পরিবর্তনের সঙ্গে এক সময়ের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হওয়া বহু বাংলা শব্দ এখন মূলত খুঁজে পাওয়া যায় কেবল অভিধানের পাতাতেই।
এমনই কিছু শব্দের মধ্যে একটি হল ‘অশন’। নতুন প্রজন্মের কাছে এই শব্দ কিছুটা অচেনা ঠেকলেও একসময় বহু পরিচিত ‘খাবার’ অথবা ‘খাদ্য’-এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হত এটি। অন্য দিকে জল, বাতাস অথবা সমুদ্রের অর্থ হিসেবে লোকমুখে ঘুরত যথাক্রমে ‘অম্বু’, ‘সমীরণ’ এবং ‘বারিধি’র মতো শব্দ। ‘নীরদ’ বলতে যে মেঘ বোঝায়, অথবা ‘শশধর’ হল চাঁদ, তা কেবল রয়ে গিয়েছে বাংলা বইয়ের পাতায়। বাড়ির উঠোন হিসেবে ‘প্রাঙ্গণ’ শব্দের প্রচলন থাকলেও ‘গবাক্ষ’ বলতে যে জানালাকে বোঝায়, তা জানলে অবাক হবেন অনেকেই। এ ছাড়াও তালিকায় আছে ‘নৃপতি’, ‘কদলী’, ‘অঙ্গার’-এর মতো শব্দগুলি। যার অর্থ যথাক্রমে রাজা, কলাগাছ এবং জ্বলন্ত কয়লা। অপর দিকে ‘তস্কর’ শব্দের জায়গা ‘চুরি’ করে কবেই পসার জমিয়েছে বাংলার ‘চোর’ শব্দটি।
যদিও ব্যবহার ফিকে হলেও গুরুত্ব কিন্তু কমে যায়নি এই শব্দগুলির। বাংলা সাহিত্য, কবিতা অথবা পুরনো সংবাদপত্রের পাতায় চোখ বোলালে এখনও পরিচয় মেলে এগুলির। এখনও তারা রয়ে গিয়েছে ভাষার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সমাজ জীবনের এক মহামূল্যবান দলিল হিসেবে।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।