Advertisement
E-Paper

‘কত নামে কত চাল’! বাঙালির হেঁশেল থেকে স্মৃতির পাতা, রইল চালের নামাবলি

‘কত ধানে কত চাল…’ কতগুলো ধান থেকে ঠিক কতগুলো চাল হয়, তার হিসেব ঠিকঠাক না মিললেও খুঁজলে বেরিয়ে আসবে বেশ কিছু চালের নামের হিসেব আর তাদের নানা গল্প।

তন্ময় রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৫
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

‘মাঠে নামো, বুঝবে কত ধানে কত চাল…’ বিশেষ এই প্রবাদ তো বাংলার ঘরে ঘরে। তবে কতগুলো ধান থেকে ঠিক কতগুলো চাল হয়, তার হিসেব ঠিকঠাক না মিললেও খুঁজলে বেরিয়ে আসবে বেশ কিছু চালের নামের হিসেব আর তাদের নানা গল্প। সঙ্গে আছে কবিতার শব্দের মতো সুন্দর, এমন অসংখ্য চালের নাম।

‘দাদখানি চাল, মুসুরির ডাল,

চিনি-পাতা দই;

দু’টা পাকা বেল, সরিষার তেল,

ডিম ভরা কই…’

যোগীন্দ্রনাথ সরকারের লেখা ‘কাজের ছেলে’ কবিতার প্রথম দু’লাইনের একদম শুরুতেই আছে ‘দাদখানি’ চালের নাম। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ খান কররানীর (১৫৭৩–১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ) নামানুসারে এই ‘দাদখানি’ চালের নামকরণ হয়েছে। সুলতানের আমলে এই সুগন্ধি আর উৎকৃষ্ট চালের ভীষণ কদর ছিল বলে জানা যায় এবং তিনি নিজেও নাকি বেশ পছন্দ করতেন এই চাল খেতে। শোনা যায়, তাঁর সময়েই তাঁকে সম্মান জানিয়ে এই চালের নাম দেওয়া হয় তাঁর নামে। আবার কিছু সূত্র এমনও বলে যে তাঁর মৃত্যুর পরে লোকমুখে এই চাল ‘দাউদখানি’ শব্দের অপভ্রংশ ‘দাদখানি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

একসময় প্রাচীন বঙ্গের গাঙ্গেয় সমভূমিতে (প্রধানত আজকের বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া ও নদীয়া জেলা) এক রকমের ধানের চাষ হত, যা আঞ্চলিক ভাষায় পরিচিত ছিল ‘খাস ধান’ নামে। কলকাতা যখন ধীরে ধীরে গ্রাম থেকে শহরে পরিণত হচ্ছে, তখন গোবিন্দপুর গ্রামের গোবিন্দ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর সেই মন্দিরে এই সুগন্ধি চালের ভোগ দেওয়ার রেওয়াজ শুরু হয়। সেই থেকে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে খাস ধানের চালের নাম পরিবর্তন হয়ে ‘গোবিন্দভোগ’ নাম হয়ে যায়।

এ ভাবেই কেবল নাম নয়, বাংলার হেঁশেল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে খোদ চালই। বাংলার মাটিতে জন্মানো এমন কিছু চালের নাম রইল, যার সিংহভাগ বিলুপ্ত হলেও নামগুলি রয়েছে গিয়েছে স্মৃতির পাতায়। যেমন- যাত্রামুকুট, হলুদগুঁড়ি, সোনাতার, বাঁশফুলি, কনকচূড়, গন্ধেশ্বরী, রাঁধুনি পাগল, লক্ষ্মীবউ, গৌরী কাজল, বাংলামতি – আরও কত কী!

মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।

Shobdo Jobdo Rice Bengali Words Games

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy