জিমে গিয়ে ওজন তুলে শারীরচর্চা বা ডেডহ্যাংয়ের মতো রড থেকে ঝুলে ব্যায়াম এখন মহিলারাও করেন। ফিটনেস নিয়ে সচেতন যাঁরা, তাঁরা কেবল ওজন কমানোর ব্যায়াম নিয়ে মাথা ঘামান না। বরং পেশির জোর বৃদ্ধি ও পেশির স্ট্রেচিং করে শক্তি বৃদ্ধি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই তালিকায় রয়েছে তাপসী পন্নু, সংযুক্তা হেগড়ে, মলাইকা অরোরার মতো অভিনেত্রীরা। সম্প্রতি ১ ঘণ্টায় ১০৬টি পুল-আপ করে খবরে এসেছেন সংযুক্তা। শাড়ি পরে তাঁর পুল-আপ করার ভঙ্গি ও পেশির জোর দেখে অবাক হয়েছেন অনুরাগীরা। সংযুক্তা বলেছেন, জিমে গিয়ে পুরুষেরা যে ব্যায়াম করতে পারে, তা চাইলে মহিলারাও করতে পারেন। পুল-আপের মতো ব্যায়াম করলে মেয়েদেরও পেশির শক্তি বাড়বে, শরীরের গড়নও সুন্দর হবে।
মহিলাদের জন্য পুল-আপ ব্যায়াম কি ভাল?
অনেক মহিলারই ভ্রান্ত ধারণা থাকে যে, ওয়েট ট্রেনিং বা পুল-আপ করলে শরীরের গড়ন পুরুষের মতো হয়ে যাবে। তা কিন্তু নয়। বরং পুল-আপ করে মহিলারা সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন। পুল-আপ হল ‘বডিওয়েট এক্সারসাইজ়’ যা করতে পেশির শক্তি, হাড়ের জোর সবই লাগে। তাই এই ব্যায়াম করলে একসঙ্গে সারা শরীরের পেশির ব্যায়াম হয়। শরীরের উপরের অংশ কাঁধ, বুক, ঘাড়, হাত ও কোমরের পেশিরও জোর বাড়ে। সেই সঙ্গে অস্থিসন্ধির শক্তি বৃদ্ধি হয়।
আরও পড়ুন:
পুল-আপ করলে কাঁধ ও হাতের পেশির উপর চাপ পড়ে বেশি। তাই সেই পেশি টানটান হয়। অতিরিক্ত মেদ কমে যায় এবং পেশির জোর বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার কারণে হওয়া পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা কমে যায় এবং শরীরের ভঙ্গিও ঠিক থাকে।
মহিলাদের হাড়ের জোর বৃদ্ধি করতে এই ধরনের ব্যায়াম বেশি কার্যকর। চল্লিশ পেরোলে মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। তাই এই ধরনের ব্যায়াম করলে সেই ঝুঁকি কমে যায়। অস্টিয়োপোরোসিসের মতো হাড় ভঙ্গুর হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
পুল-আপ করলে শরীরের গড়ন সুন্দর হয়। অতিরিক্ত মেদ ঝরে যায়।
কী ভাবে করবেন?
অ্যাসিস্টেড রেজ়িস্ট্যান্স ব্যান্ড পুল-আপ
পুল-আপ বারে একটি শক্ত রেজ়িস্ট্যান্স ব্যান্ড শক্ত করে বাঁধুন। এ বার ব্যান্ডের নীচের অংশে এক পায়ের পাতা বা হাঁটু রেখে বারটি ধরুন এবং শরীর উপরে তুলুন।
ইসেন্ট্রিক পুল-আপ
কোনও টুল বা বেঞ্চে দাঁড়িয়ে পুল-আপ বার শক্ত করে ধরে সরাসরি শরীর উপরে তুলে নিন। এ বার খুব ধীরে ধীরে ৫-৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে শরীর নীচে নামিয়ে আনুন।
পুল-আপ করার সময়ে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিতেই হবে। শুরুতেই শরীরের সম্পূর্ণ ওজন উপরে তোলার চেষ্টা করবেন না। এতে কাঁধ, হাতের কব্জিতে আঘাত লাগতে পারে। সংযুক্তা হেগড়ে বহুদিন ধরেই স্ট্রেংথ ট্রেনিং করেন। তাই তাঁর শাড়ি পরে এমন ব্যায়াম করতে সমস্যা হয়নি। যিনি অভ্যস্ত নন, তাঁর শাড়ি পরে এমন ব্যায়াম না করাই ভাল। আর্থ্রাইটিস, ভার্টিগো বা রক্তচাপের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা ঠিক হবে না।