রক্তে শর্করা বশে রাখতে যেমন শারীরচর্চা জরুরি, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে পুষ্টিরও। শুধু যে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলেই রক্তে শর্করা বাড়ে তা নয়, বরং খাওয়ার কৌশলে ভুল থাকলেও এমনটা হতে পারে।
যদি বিকেলের দিকে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হয়, তা হলে বরং চুমুক দিতে পারেন তিন পানীয়ে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, এতে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, বশে থাকবে শর্করাও।
গ্রিন টি: বিকেলে শুধু জলের বদলে গ্রিন টিয়ে চুমুক দেওয়া ভাল। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় প্রকাশ গ্রিন টি ইনসুলিনের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, গ্রিন টি বিপাকহার বাড়িয়ে ওজন বশে রাখতেও সহায়ক। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে তা অন্যরকম শর্ত। এতে রয়েছে ‘ইজিসিজি’ নামে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে।
স্মুদি: রক্তে শর্করা বশে রাখতে বিশেষ ধরনের স্মুদিও উপযোগী। সব্জি বা ফলে থাকা ফাইবার শরীরে ছাঁকনির মতো কাজ করে। কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরে ডায়াবেটিকদের শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। কিন্তু ফাইবার তাতে বাধা দেয়। ফলে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেটের সমম্বয়ে তৈরি স্মুদি খাওয়া যেতে পারে, যা শক্তিও জোগাবে, পেট ভরাবে আবার রক্তে শর্করার মাত্রা বা়ড়তে দেবে না। আপেল, ওট্স, বাদাম ও জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে স্মুদি বানাতে পারেন। আবার কচি পালং পাতা, বাদাম দিয়েও স্মুদি বানানো যেতে পারে।
ভেষজ চা: ক্যামোমাইল, পুদিনা, আদা, দারচিনি দিয়ে তৈরি ভেষজ চা যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনই স্বাস্থ্যকরও। রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে সক্ষম। নামে চা হলেও এতে চা-পাতার ব্যবহার হয় না বলে ক্যাফিনমুক্ত। ভেষজ এই উপকরণের অনেক গুণ। ক্যামোমাইল স্নায়ু শান্ত রাখতে সহায়ক। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, দারচিনি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। এই সমস্ত উপকরণে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদানও। তবে পানীয়ে চিনি, মধু যোগ করা যাবে না।
উপকারী হলেও কোনও পানীয় বেশি খাওয়া ভাল নয়। বিকেলের দিকে এক কাপই যথেষ্ট। তা ছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দেখা প্রয়োজন দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি ফাইবার, প্রোটিন থাকছে কি না। স্যালাডে রয়েছে ফাইবার। মাছ, মাংস, ডিম বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মেলে এমন খাবার পাতে থাকা দরকার।
খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়া নয়। ১০ মিনিট বসে বিশ্রাম নিয়ে ১০ মিনিট পায়চারি করা ভাল। শর্করা নিয়ন্ত্রণে বিকেলে শুধু পানীয়ে চুমুক না দিয়ে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটাহাটির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।