হৃদ্যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে খাওয়া-দাওয়া থেকে বাদ পড়ে যায় অনেক কিছুই। হৃদ্রোগ হলে মানতে হয় অনেক নিয়মকানুন। তবে হৃদ্যন্ত্র যাতে ভাল থাকে, সেই চেষ্টা করা প্রয়োজন কম বয়স থেকেই। চিকিৎসকেরা বলছেন মানসিক চাপ, শারীরচর্চার অভাব, জাঙ্কফুড খাওয়ার প্রবণতা, হাঁটাচলার অভাব, বাড়তি ওজনের জন্য কম বয়সেই দেখা দিচ্ছে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা। হার্ট অ্যাটাক আর বয়সকালের সমস্যা নয়।
হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে গেলে বিস্বাদ খাবারই খেতে হবে, তার কোনও মানে নেই। ওট্স, টাটকা সব্জি, আখরোট, বিভিন্ন রকম মাছ হার্ট ভাল রাখতে সাহায্য করে। পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত রন্ধনশিল্পী, লেখিকা তরলা দলালের থেকে শিখে নিন হার্ট ভাল রাখার তিন নিরামিষ খাবার।
পালং-বাজরার খিচুড়ি
পালং বাজরার খিচুড়ি দিনে যে কোনও সময়েই খাওয়া যেতে পারে। ছবি:সংগৃহীত।
পালং শীতের সব্জি হলেও, এখন প্রায় অনেক শাকই বছরভর মেলে। পালংশাক বা সবুজ শাকপাতায় মেলে ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার, যা হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে। এতে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম রয়েছে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই খাবারে ফাইবারের মাত্রা বেশি, গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।
বাজরা রাতভর ভিজিয়ে রাখুন। আধঘণ্টা আগে ভিজিয়ে দিন মুগডাল। টাটকা পালংশাক ধুয়ে কুচিয়ে রাখুন। প্রেশার কুকারে বাজরা, মুগডাল, নুন এবং হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। কড়াইয়ে ঘি দিয়ে জিরে, হিং, হলুদ ফোড়ন দিন। পালংশাক দিয়ে আঁচ কমিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে নিন, যাতে কাঁচা গন্ধ চলে যায়। সেটি সেদ্ধ বাজরায় মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঝাল খেতে চাইলে কাঁচালঙ্কা, শুকনো লঙ্কা যোগ করতে পারেন ফোড়নে।
সেমাই এবং সব্জির উপমা
সেমাই দিয়ে বানিয়ে ফেলুন উপমা। ছবি:সংগৃহীত।
উপমা সাধারণত সুজি দিয়ে হয়। তবে সেমাই দিয়েও তা বানাতে পারেন। রকমারি সব্জি ভিটামিন, খনিজে ভরপুর। এতে মেলে ফাইবারও, যা হার্টের জন্য ভাল।
শুকনো কড়াইয়ে ২-৩ মিনিট সেমাই নাড়াচাড়া করে তুলে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে সর্ষে, বিউলির ডাল, কারিপাতা ফোড়ন দিন। কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজকুচি দিয়ে নাড়াচাড়া করে যোগ করুন গাজর, কড়াইশুঁটি এবং পছন্দের সব্জি। স্বাদমতো নুন দিয়ে নাড়তে হবে। অল্প জল দিয়ে ঢাকা দিন, যাতে সব্জি সেদ্ধ হয়। এর পর সেমাই দিয়ে রান্না করুন। আরও কিছুটা গরম জল যোগ করুন। উপমায় সেমাই নরম হবে, তবে গলে যাবে না। ঝরঝরে থাকবে। একেবারে শেষে পাতিলেবুর রস ছড়িয়ে দিন।
ওট্স-সব্জির প্যানকেক
ওট্সের প্যানকেক। ছবি:সংগৃহীত।
ওট্স মিক্সারে গুঁড়িয়ে নিন। তার সঙ্গে গ্রেট করা গাজর, মিহি করে কুচোনো পালংশাক, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো নুন, জল দিয়ে পাতলা করে গুলে নিন। ননস্টিক তাওয়ায় তেল ব্রাশ করে নিন। তাওয়া গরম হলে হাতার সাহায্যে গোল করে প্যানকেক বানিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে সময় নিয়ে উল্টে-পাল্টে ভাজুন। ভিটামিন, ফাইবারে ভরপুর খাবারটি কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।