আবহাওয়া বদলের এই সময়টায় ঘরে ঘরে কাশি-গলা ব্যথা, ভাইরাল জ্বরের সমস্যা। যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা জানেন রাতে কাশির দমক কী ভাবে বাড়ে। বিশেষ করে বালিশে মাথা ছোঁয়ালেই যেন কাশির দাপট আরও বেড়ে যায়। একটানা কাশির চোটে অনেকেই রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমোতে পারেন না। কষ্ট পান। সমস্যার সহজ কিছু সমাধান রয়েছে হাতের কাছেই। রাতে শোওয়ার আগে তিনটি ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলে ম্যাজিকের মতো আরাম মিলবে গলায়। ঘুম হবে নিশ্চিন্তে।
১. মুখে রাখুন এক টুকরো লবঙ্গ: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটি বা দুটি লবঙ্গ হালকা চেঁপে মুখে রেখে দিন বা হালকা চিবিয়ে রসটি আস্তে আস্তে ভিতরে যেতে দিন।
কেন কাজ করে: লবঙ্গে রয়েছে ইউজিনল, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ। এটি গলার ভেতরের প্রদাহ ও চুলকানি কমায় এবং ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট করে গলার পেশিকে শিথিল করে। ফলে কাশি কমতে শুরু করে।
২. উষ্ণ জল আদা ও মধুর মিশ্রণ: এক গ্লাস হালকা গরম জলে এক চামচ ভাল মধু এবং কয়েক ফোটা আদার রস মিশিয়ে শোওয়ার আধ ঘণ্টা আগে পান করুন।
কেন কাজ করে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারমতে, মধু কাশির একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ। মধু গলার ক্ষত বা খসখসে ভাবের ওপর একটি পাতলা প্রলেপ তৈরি করে গলার জ্বালা কমায়। অন্যদিকে আদায় রয়েছে জিনজারল ও শোগাওল নামক প্রাকৃতিক উপাদান, যার শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী এবং পেশি শিথিল করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি গলা ও শ্বাসনালীর পেশিকে শিথিল করে স্প্যাজ়ম মুহূর্তে কমিয়ে দেয়।
৩. হলুদ-দুধ: এক কাপ দুধে এক চিমটে কাঁচা হলুদ বা হলুদের গুঁড়ো এবং সামান্য গোলমরিচ দিয়ে ফুটিয়ে ইষদুষ্ণ অবস্থায় পান করুন।
কেন কাজ করে: হলুদে থাকা কারকিউমিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শ্বাসনালীর ফুসফুসীয় প্রদাহ কমায়। আর গোলমরিচের পাইপারিন শরীরে হলুদ শোষণে সাহায্য করে কফ বা শ্লেষ্মা গলিয়ে দেয়, যার ফলে রাতের বেলা নিঃশ্বাস নেওয়া সহজ হয় ও কাশি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিছানায় যাওয়ার আগে এই সহজ উপায়গুলোর যেকোনও একটি বা দুটি নিয়মিত মেনে চললেই মিলবে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি, আর রাতে ঘুমও হবে শান্তিতে।