গাঁটে গাঁটে ব্যথা বা বাতের ব্যথা এখন আর বয়সকালের অসুখ নয়। বরং কম বয়সেও অনেকেই অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগছেন। একবার হাঁটু, গোড়ালিতে ব্যথা হওয়া মানে হাঁটাচলা, দৈনন্দিন জীবনযাপনে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। আর সময়ে সতর্ক না হলে,বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি অনিবার্য।
হাড়ের চিকিৎসকেরা বলছেন, কিছু ভুল ধারণা, ভুল অভ্যাসেই বাত বা আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা, অস্থিসন্ধির ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
শারীরচর্চা
হাঁটু বা গোড়ালিতে ব্যথা হলে ইজ়ি চেয়ারে বা আরাম করে খাটে বসে থাকাই আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে এই প্রবণতাই বিপদ বৃদ্ধি করতে পারে। ব্যথা একটু কমলে, নিজেকে সচল রাখা জরুরি। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময় স্ট্রেচিং বা হালকা শারীরচর্চা অস্থিসন্ধি সংলগ্ন পেশিতে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এই পেশিগুলি ঝাঁকুনি সহ্য করতে সাহায্য করে। কোনও কারণে, পেশি দুর্বল হলে সমস্যা বাড়বে। ফলে অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য সাইক্লিং, স্ট্রেচিং-এর মতো শারীরচর্চা করা জরুরি। ৩০-৬০ মিনিট নিয়ম করে শারীরচর্চা করলে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:
ব্যথানাশক ওষুধ
অস্থিসন্ধিতে ফোলা, ব্যথা কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহনাশক ওষুধের ব্যবহার করা হয়। কষ্ট উপশমে তা কার্যকর। তবে লম্বা সময় ধরে এমন ওষুধের প্রয়োগে লিভার, পাকস্থলী, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। কারণ, ওষুধগুলি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের ওষুধগুলি একটানা না খাওয়াই ভাল।
ব্যথা উপেক্ষা করা
প্রাথমিক উপসর্গ এড়িয়ে গেলেই বিপদ! হাঁটু বা কোমরে হালকা ব্যথা নিয়ে মাথা ঘামান না অনেকে। পা ফুললেও হাতের কাছে থাকা ব্যথার ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুরুতে সতর্ক না হলেই বিপদ। আর্থ্রাইটিসের নানা ধরন আছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস দ্রুত অস্থিসন্ধির পাতলা আস্তরণ, হাড়ের ক্ষতি করে। আর একবার সেই ক্ষতি হলে, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। প্রথম থেকেই চিকিৎসা হলে হাড়, পেশির ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
সাপ্লিমেন্টের উপর ভরসা
কোলাজেন, হলুদের মতো সাপ্লিমেন্ট অস্থসন্ধির জন্য ভাল। তবে সব রকম সাপ্লিমেন্ট নয়। শুধু সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া, শারীরচর্চার উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, মদ্যপানে পেশি, অস্থির ক্ষতি হয়। অ্যালকোহল অস্টিয়ো আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।