হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতেই শারীরচর্চা। আবার শারীরচর্চা করতে গিয়েই হার্ট অ্যাটাকের ঘটনাও কম ঘটছে না। জিম করার সময়েই হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে, এমন উদাহরণ নেহাত কম নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, হৃদ্যন্ত্র সুস্থ নেই, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় আগেই। সময়ে সতর্ক হলে, ওষুধ খেলে বিপদ এড়ানোও যায়। শারীরচর্চার সময়েও কিছু লক্ষণ তেমনই পূর্বাভাস দেয়।
জর্জিয়ার হৃদ্রোগের চিকিৎসক জেরেমি লন্ডন সমাজমাধ্যমে সতর্ক হতে বলছেন এমন কিছু লক্ষণ প্রসঙ্গেই। শারীরচর্চার সময় কোন সমস্যা হলে তখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, পরামর্শ দিলেন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:
১। ওজন নিয়ে শারীরচর্চা করছেন বা বেশি কায়িক শ্রমের কোনও ব্যায়াম করছেন, তখন আচমকা বুকে চাপ লাগলে, একটু বেশি হাঁপ ধরে গেলে থেমে যান। বিশ্রামের সময় কষ্ট হচ্ছে না, অথচ শারীরচর্চা করলে সেই কষ্টই ফিরছে, এমনটা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। শারীরিক পরিশ্রমের সময় বুক বা শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক অনুভূতি হওয়াকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। এমন লক্ষণ হৃদ্যন্ত্র ছাড়া অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বিপদ এড়ানো যেতে পারে।
২। অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সতর্কতা জরুরি। যে শারীরচর্চা কিছু দিন আগেও অনায়াসে করা যেত, তা করলে কি এখন ক্লান্তিবোধ হচ্ছে? রুটিন বদল ছাড়া আচমকা ক্লান্তিও কিন্তু বিশেষ ইঙ্গিতবাহী। এমনটা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। সময়মতো কিছু পরীক্ষা করালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যেমন এড়ানো যেতে পারে, অন্য সমস্যা থাকলে সেটিও দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
৩। গোড়ালি থেকে পায়ের পাতা ফুলতে থাকাও হার্টের সমস্যার ইঙ্গিতবহ হতে পারে। পায়ের পাতা ফোলা, ক্লান্তি, বুকে চাপ লাগা— এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত সতর্কতা প্রয়োজন। অনেক সময় শুধুই পা ফোলে, অন্য কষ্ট থাকে না। সেই ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।
৪। শারীরচর্চার সময় মাথা ঘুরলে, বুকে কষ্ট হলেও সচেতন হওয়া জরুরি। শরীরে শর্করার অভাব হলে, জলের ঘাটতি হলে মাথা ঘুরতে পারে। তবে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থেকেও এমনটা হতে পারে। বিশেষত হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়া, চারপাশ আচমকা অন্ধকার হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ একেবারেই হেলাফেলার নয়।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক হওয়া জরুরি, আতঙ্কিত নয়। শরীরে অস্বস্তিকর লক্ষণ দেখা দিলে, সময় নষ্ট না করে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।