ফিট থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করেন অমৃতা অরোরা। কখনও তাঁকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়, কখনও বাড়ির ট্রেডমিলে, আবার কখনও জিমে দেখা যায় কায়িক শ্রম করতে। কিন্তু তাঁর ফিটনেস রুটিনের একটি কথা সম্প্রতি নজর কেড়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, কোনও দিন যদি মনে হয় অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছেন, তা হলে জিমে গিয়ে আরও কঠিন শারীরচর্চা করেন তিনি। বেশি খাওয়ার জন্য শারীরচর্চাকে শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করেন অমৃতা।
অমৃতা বলছেন, ‘‘এখন আমি নিয়ম মেনে ব্যায়াম করি। কী খাচ্ছি, সে বিষয়ে প্রচণ্ড সচেতন। কিন্তু সর্বদা এ রকম ছিলাম না মোটেও। মাঝে কয়েক বছর রাশ একেবারে ছেড়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। যেমন ইচ্ছে, তেমন ভাবে কাটাতাম জীবন। ফের সেই ছন্দে ফিরতে তাই অনেকটা সময় লেগেছে আমার।’’ অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘‘তবে এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ নয়। এর জন্য প্রয়োজন অনেকটা শ্রম। অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। যদি আমার মনে হয় বেশি খেয়ে ফেলেছি, তা হলে পরের দিন অতিরিক্ত পরিশ্রম করি জিমে গিয়ে।’’
অমৃতার ফিটনেস যাত্রা। ছবি: সংগৃহীত
এই অভ্যাস কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?
শারীরচর্চাকে শাস্তি হিসেবে দেখার এই অভ্যাস অমৃতার একার নয়। অনেকেই এই ভাবে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেন। বেশি খাওয়াদাওয়া করে জিমে গিয়ে ক্যালোরি ঝরিয়ে নিলেই নিশ্চিন্ত তাঁরা।
শারীরচর্চা অবশ্যই উপকারী। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর অপরাধবোধ থেকে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা উচিত নয়। একদিনের বেশি খেয়ে ফেলা দীর্ঘদিনের ফিটনেসের অগ্রগতিকে নষ্ট করে দেয় না। বরং সেই খাবারের ক্ষতিপূরণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে অপরাধবোধ, খাবার কমিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত অনুশীলনের একটি অস্বাস্থ্যকর চক্র তৈরি হতে পারে। এর ফলে খাবারের সঙ্গে এবং শারীরচর্চার সঙ্গে সম্পর্কটাও অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। ধরা যাক, কোনও অনুষ্ঠানে গিয়ে একটু বেশি খেয়ে ফেলেছেন। তার পরের দিন স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া বাদ দিয়ে দেওয়া বা জিমে গিয়ে নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাসে ফিরে আসুন এবং নিজের নির্ধারিত শারীরচর্চার রুটিন মেনে চলুন।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, অতিরিক্ত খাওয়ার পর আবার নিজের স্বাভাবিক রুটিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। যদি বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা মাঝেমধ্যেই বেড়ে যায়, তা হলে সেটার কারণ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। খুব বেশি খিদে পেয়েছিল, মানসিক চাপ ছিল, আবেগের বশে খেয়েছেন, না কি কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে একটু বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছে? কারণটা বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে অভ্যাস সামলানো সহজ হয়। বার বার অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা এবং তার পর সেই খাবারের ক্ষতিপূরণ করতে অতিরিক্ত শারীরচর্চা করার প্রবণতা দেখা দিলে সেটা ভাল নয়।