মেদ ঝরিয়ে হতে হবে ফিট। তন্বী চেহারার অধিকারী হতে চেয়ে পরিমিত খাচ্ছেন। দিনভর জল খাওয়াতেও ঘাটতি নেই। দিন শুরু হচ্ছে হাঁটাহাটিতে। অথচ ওজন কমছে না এতটুকু! কোন সমস্যা নেপথ্যে থাকতে পারে?
হরমোনের হেরফের: কারণ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি, চেষ্টা করেও ওজন না কমার নেপথ্যে থাকতে পারে হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া। হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায়। তার ফলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। ওজন বাড়তে পারে। পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম) হলেও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। প্রথমেই দেখা প্রয়োজন হরমোনজনিত সমস্যা আছে কি না। সেটি ঠিক না হলে, পরিমিত খেয়েও ওজন কমানো কঠিন।
দৈনন্দিন ক্যালোরি খরচ: দিনে একবার হাঁটাহাঁটি যথেষ্ট নয়। দিনভর একটানা বসে কাজ করতে হলে, শারীরিক সঞ্চালন না হলে ক্যালোরি খরচ কমে যায়। ওজন কমাতে হলে ক্যালোরির হিসাব অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন যত ক্যালোরি প্রয়োজন, তার থেকে অন্তত ৩০০-৫০০ ক্যালোরির ঘাটতি হলে তবেই ওজন কমবে। দিনভর নানা কাজে শারীরিক ভাবে সক্রিয় হওয়াও জরুরি।
আরও পড়ুন:
পুষ্টিকর উপাদানের সমন্বয়: ওজন কমাতে হলে প্রয়োজন ক্যালোরি মেপে খাওয়া। তবে হিসাব কষে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হল না, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক সামঞ্জস্য রক্ষা করাও জরুরি।
মানসিক চাপ: ক্রমাগত মানসিক চাপ, নির্ঘুম রাতও ওজন না কমার কারণ হতে পারে। মেদ গলার জন্য বিপাকহার ঠিক থাকা দরকার। মানসিক চাপের কারণে, হরমোনের হেরফের হতে পারে, তার প্রভাব পড়তে পারে অন্ত্রের স্বাস্থ্য থেকে হজমেও।
জিনগত প্রভাব: জিনগত কারণও ওজন বৃদ্ধির নেপথ্যে থাকতে পারে। কোনও কোনও পরিবারের সদস্যদের চেহারা ভারী হয়। আবার কোনও পরিবারে বেশির ভাগ সদস্যই ছিপছিপে হন। খিদে, বিপাকহার— এগুলি কখনও কখনও জিন দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত হয়।