প্রাতরাশ থেকে নৈশ আহার— কোনওটাই সময়ে করতে পারেন না? পুষ্টিবিদ লভনীত বাতরার কথায়, ভারতীয় খাবার পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবে ইদানীং ব্যস্ত জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসে বদল হচ্ছে। তার ফলে সচেতন না হলে পুষ্টিতে ফাঁক থাকতে পারে। তিনি মনে করাচ্ছেন, পাঁচটি পুষ্টিগুণ রোজকার খাবারের তালিকায় থাকা জরুরি। না হলেই দুর্বল হতে পারে হাড়, কমতে পারে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা। এমনকি দোসর হতে পারে অসুখও।
প্রোটিন: প্রোটিনে ফাঁক থেকে গেলে দুর্বল হতে পারে পেশি। তার উপর যদি খাটাখাটনি বেশি হয়, কেউ নিয়মিত শারীরচর্চা করেন, পেশিক্ষয়ও হতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত-ডালই যথেষ্ট নয়। প্রোটিনের চাহিদাপূরণে পনির, টোফু, অঙ্কুরিত মুগ, মাছ, মাংস, ডিমের মতো খাবার যুক্ত করা জরুরি।
ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ব্যবহার জরুরি। লভনীতের কথায়, ওমেগা-থ্রি প্রজনন হরমোন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের হরমোনের অভাব হলে, ঋতুস্রাবের চক্রে হেরফের হতে পারে, ঋতুস্রাবের আগে পেট ফাঁপার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ভেজানো আখরোট, চিয়াবীজ, তিসিবীজ, হেম্প বীজ, রান্নার জন্য নারকেল তেল।
ভিটামিন ডি: ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ভিটামিন ডি-র অভাব খুবই সাধারণ সমস্যা। ভিটামিনটির অভাবে যেমন হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে তেমনই অবসাদ বাসা বাঁধতে পারে। গায়ে সকালের রোদ লাগাতে পরামর্শ দিচ্ছেন লভনীত। ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণে ফর্টিফায়েড দুধ, খাবার, মাশরুম, ডিম খাওয়া জরুরি।
ক্যালশিয়াম: দাঁত, হাড় মজবুত রাখার জন্য ক্যালশিয়াম খুব জরুরি। দুধ, ডিম, রাগি, তিল, চিয়া, অনরন্থ আটা, টোফু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রাখলে, ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হবে না।
ম্যাগনেশিয়াম: ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমতে পারে।বাড়তে পারে মানসিক চাপ। কুমড়োর বীজ, ভেজানো কাঠবাদাম, মাখানা, পালংশাক, ডার্ক চকোলেটে ম্যাগনেশিয়াম মেলে যথেষ্ট।