কেউ হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে হাত-পা ছুড়ছেন, শরীর কাঁপছে, কথা বা সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন— এমন দৃশ্য সামনে দেখলে স্বাভাবিক ভাবেই ভয় পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু খিঁচুনি চলাকালীন আতঙ্কিত হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামলাতে গিয়ে ভুল করে ফেললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নয়াদিল্লির স্নায়ুরোগ চিকিৎসক রাহুল চাওলা খিঁচুনির রোগী সামলানোর ৫টি পন্থার কথা জানালেন।
খিঁচুনি হলে রোগীকে কী ভাবে সামলাবেন? ছবি: সংগৃহীত
খিঁচুনির রোগী সামলানোর ৫ পদ্ধতি
১. চেপে ধরবেন না: খিঁচুনির সময়ে হাত-পা বা পুরো শরীর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কাঁপতে পারে। সেই নড়াচড়া বন্ধ করার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোর করে চেপে ধরে রাখবেন না। বরং তাঁর আশপাশে কোনও ধারালো, শক্ত বা বিপজ্জনক জিনিস থাকলে তা সরিয়ে দিন, যাতে তাঁর চোট না লাগে।
২. মুখে কিছু দেবেন না: খিঁচুনির সময়ে রোগীর মুখ শক্ত হয়ে গেলে বা দাঁতে দাঁত চেপে ধরলে অনেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। তাই চামচ, কাপড় এমনকি আঙুলও মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি হয়ে দম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, পাশাপাশি মুখ ও দাঁতে আঘাতও লাগতে পারে।
৩. একপাশে কাত করে দিন: আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলতো করে একপাশে কাত করে দিন। এতে মুখ থেকে বেরোনো লালা বা অন্য তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। আশপাশের বিপজ্জনক জিনিস সরিয়ে দিন।
৪. সময়ের দিকে নজরে রাখুন: খিঁচুনি কখন শুরু হল, সেই সময়টা খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ খিঁচুনি ১-২ মিনিটের মধ্যে থেমে যায়। কিন্তু ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে খিঁচুনি চললে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন।
৫. জল বা খাবার দেবেন না: খিঁচুনি থেমে যাওয়ার পরেও আক্রান্ত ব্যক্তি কিছুক্ষণ বিভ্রান্ত বা অসংলগ্ন এবং ক্লান্ত থাকতে পারেন। তাই সঙ্গে সঙ্গে জল, খাবার বা অন্য কিছু দেবেন না। সম্পূর্ণ ভাবে সজাগ হয়ে স্বাভাবিক ভাবে সাড়া দিতে পারছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই খাবার বা জল দেওয়ার কথা ভাবুন।
ভুল পদ্ধতিতে খিঁচুনি থামানোর চেষ্টা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ রাখাই প্রথম কাজ। পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে খিঁচুনি চললে দেরি না করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া উচিত। এই তথ্যগুলি প্রাথমিক সহায়তার জন্য। কোনও নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শই অনুসরণ করা উচিত।