স্ট্রোক হলে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে সেই ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং ধমনীর স্বাস্থ্য যদি ভাল রাখা যায়, তবে আচমকা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। সেই সমস্ত শর্ত পূরণ করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই সাহায্য করতে পারে দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়ার রুটিন। রোজের খাবারের থালায় যদি পাঁচটি খাবার নিয়মিত রাখা যায়, তবে উপরোক্ত শর্তগুলি পূরণ হবে, কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকিও।
১. সবুজ শাকসব্জি: পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ পাতাজাতীয় সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, পটাশিয়াম এবং নাইট্রেট থাকে। এসব উপাদান রক্তনালীকে শিথিল রাখতে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।
২. সামুদ্রিক মাছ : ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ যেমন— ইলিশ বা রুই-কাতলার মতো চর্বিযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমে। ট্রাইগ্লিসারাইডও কমে। রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা কমাতে চাইলে এবং ধমনীতে প্লাক জমার সমস্যা দূরে রাখতে চাইলে খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকা অত্যন্ত জরুরি।
৩. টকজাতীয় ফল ও বেরি : ভিটামিন সি এবং ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ টক ফল, যেমন আমলকী, লেবু, কমলালেবু ইত্যাদি ধমনীর ভেতরের আস্তরণকে সুস্থ রাখে। এগুলি অ্যান্টিঅক্সিড্য়ান্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের প্রদাহ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
৪. বাদাম ও বীজ : কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ, তিসি বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম ও বীজ খেলে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ধমনী সুরক্ষিত থাকে।
৫. ওটস ও দানা শস্য : আটার রুটি বা লাল চাল— এসব খাবারে দ্রবণীয় ফাইবার বেশি থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
আর যা মনে রাখা জরুরি
এ সব খাবার নিয়মিত গ্রহণ করার পাশাপাশি নুন ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাও দরকার। সেই সঙ্গে নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করলেও স্ট্রোক এড়ানো যেতে পারে।