বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দেয় বটে কিন্তু সেই সঙ্গে রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। আর বর্ষায় সাবধানও হতে হয় বেশি। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ার জন্য ব্যাক্টেরিয়া এবং ছত্রাকের সংক্রমণ অতি মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় খাবার থেকে বিষক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই বছরের অন্যান্য সময়ে যে খাবারগুলি সানন্দে ও স্বাস্থ্যকর ভেবে খাওয়া যায়, বর্ষায় সেই খাবারও খাওয়ার আগে দু’বার ভাবা উচিত। পেটের সংক্রমণ বা হজমের সমস্যা এড়াতে তাই বর্ষায় দূরে থাকুন ৫ রকমের খাবার থেকে।
কাঁচা শাকসবজি ও স্যালাড: বর্ষাকালে শাকসবজিতে ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষুদ্র জীবাণুর উপদ্রব বাড়ে। তাই শসা, টমেটো বা লেটুসের কাঁচা স্যালাড না খেয়ে ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করা সবজি খাওয়া নিরাপদ।
কেটে রাখা ফল: খোলা বাতাসে কেটে রাখা ফলে আর্দ্রতার কারণে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে। তাই আগে থেকে কেটে রাখা ফল না খেয়ে, খাওয়ার ঠিক আগেই ফল ভাল ভাবে ধুয়ে কেটে খাওয়া উচিত।
ডাবের জল: বছরের অন্য সময়ে অত্যন্ত উপকারী ও তরতাজা অনুভব দিলেও, বর্ষায় অতিরিক্ত ডাবের জল খেলে অনেকের হজমে সমস্যা বা ঠান্ডা লাগার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
মাছ ও সামুদ্রিক খাবার: বর্ষাকাল সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজননের মরসুম। এই সময়ে মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের মান বজায় রাখা কঠিন হয় এবং তা থেকে পেটের গোলযোগ বা খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
দই বা ঠান্ডা দুগ্ধজাত খাবার : বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় পাচনতন্ত্র কিছুটা দুর্বল থাকে। রাতে বা অতিরিক্ত ঠান্ডা দই খেলে কফ ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়তে পারে। দইয়ে ব্যাক্টেরিয়ার মাত্রা বেড়ে দই দ্রুত খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বর্ষায়। তাই দই খেলে বাড়িতে পাতা টাটকা দই খাওয়া উচিত বর্ষায়।
তবে এর বদলে আরও অনেক স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বর্ষাকালে খাওয়ার জন্য। বর্ষায় সুস্থ থাকতে টাটকা, গরম ও সঠিকভাবে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।