বৃহস্পতিবার ৭৬-এ পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রবল কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর স্বাস্থ্যচর্চা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি। যোগাসন, হাঁটা, শ্বাসের ব্যায়াম থেকে শুরু করে উপবাস— বিভিন্ন অভ্যাসের মধ্যে বার বার উঠে এসেছে নিয়মে বাঁধা যাপন ও শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ। তাঁর জন্মদিনে ফিরে তাকানো যাক ৫টি এমন অভ্যাসের দিকে, যেগুলি তাঁকে এই বয়সেও ফিট এবং কর্মক্ষম রেখেছে।
১. ভোরে ওঠা এবং যোগাসন
যোগাসন নিয়ে সারাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালান যে ব্যক্তি, তিনি যে নিজেও যোগের প্রতি নিষ্ঠাবান হবেন, তা খানিক বলাই বাহুল্য। কিছু রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ভোর ৪টে নাগাদ ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আর সকালে উঠে যোগাসন তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরচর্চার অন্যতম অংশ। ২০১৮ সালে সকালে নিজের শারীরচর্চার একটি ঝলক প্রকাশ করেছিলেন মোদী। সেখানে যোগ, হাঁটা এবং শ্বাসের ব্যায়াম করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতিও মোদী বলেছেন, যোগাসন যে কোনও বয়সে অভ্যাস করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসেও তিনি নিয়মিত যোগাসন করার গুরুত্বের কথা বলেন।
এই বয়সেও ফিট এবং কর্মক্ষম মোদী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
২. হাঁটাহাঁটি
গতানুগতিক জিমসর্বস্ব শারীরচর্চার চেয়ে যোগাসন, প্রাণায়াম এবং মননশীলতাকে একত্রিত করার উপর বেশি জোর দেন তিনি। তবে কেবল যোগাসন নয়, হাঁটাহাঁটি করে ফিট থাকাও তাঁর রুটিনের অঙ্গ।
৩. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
নরেন্দ্র মোদীর ফিটনেসে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করার প্রমাণও রয়েছে। তাঁর পোস্ট করা ছবিতেই দেখা গিয়েছে তিনি প্রাণায়াম করছেন।
নরেন্দ্র মোদীর রোজের যাপন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
৪. খাদ্যাভ্যাস
মোদী বিভিন্ন সময়ে তাঁর উপবাসের অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ৫০-৫৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত উপবাস করে আসছেন। আর খাবারদাবারের ক্ষেত্রে তাঁর থালায় সাধারণ, ঘরোয়া পদই থাকে বলে জানিয়েছেন একাধিক বার। তারকাদের মতো কেতাদুরস্ত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ারই পক্ষপাতী নন তিনি। মোদীর খাদ্যতালিকায় শাকসব্জি, ফলমূল এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাবারের মতো বিভিন্ন খাবার অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর খাবারে সজনের প্রাধান্য রয়েছে। তা সে পরোটা হোক বা ঝোল।
৫. নিয়মে চলা
খাওয়াদাওয়া হোক বা যোগাসন, সমস্ত ক্ষেত্রেই তাঁর মূলমন্ত্র একটিই। আর তা হল, নিয়মে চলা। কোনওটিকেই তিনি বিচ্ছিন্ন অভ্যাস হিসাবে দেখেন না। বরং নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ব্যস্ত জীবনেও রোজ সমস্ত নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেন তিনি।
মোদীর দৈনন্দিন রুটিন থেকে যা শেখা যায়, তা হল কঠোর সময়সূচি মেনে চলার চেষ্টার পরিবর্তে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টিকর খাবার, মননশীলতা এবং শৃঙ্খলার উপর জোর দিলেই বয়সকে হার মানিয়ে ফিট থাকা যায়।