সকালের দিকে হালকা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। তায় আবার মাঝেমধ্যেই নামছে বৃষ্টি। আবহাওয়া বদলাতে শুরু করলে ভোরে ওঠা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঘিরে ধরে আলস্য। কিন্তু সকালেই জিমের অভ্যাস। সে ক্ষেত্রে কফিই হয়ে দাঁড়ায় সহায়। গরম কফিতে চুমুক দিয়েই চাঙ্গা হয় শরীর। কিন্তু অনেকেরই সকাল সকাল ক্যাফিন সহ্য হয় না। সে ক্ষেত্রে শারীরচর্চার আগে কী পান করবেন?
বাতাসে যখন হালকা শীতের আমেজ, ভোরের দিকে উঠে ৫ ধরনের পানীয়ে চুমুক দিয়ে শারীরচর্চা করতে যেতে পারেন। রইল সেই পানীয়গুলির সন্ধান।
১. উষ্ণ পাতিলেবুর জল
ঠান্ডা ঠান্ডা লাগলে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল আরাম দিতে পারে। তাতে অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে জল অত্যন্ত জরুরি। পাতিলেবু জলে স্বাদ যোগ করে, ফলে সকালে জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করাও সহজ হয়। ব্যায়াম শুরুর ১৫-৩০ মিনিট আগে এই জল পান করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, পাতিলেবুর জল কোনও ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নয়। এতে ক্যালোরি বা কার্বোহাইড্রেট প্রায় নেই। তাই দীর্ঘক্ষণ বা কঠিন শারীরচর্চার আগে শুধু এই পানীয়ের উপর নির্ভর করলে চলবে না। অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে খালি পেটে লেবুর জল খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ জল বা অন্য কোনও পানীয় বিকল্প হতে পারে।
২. কলার স্মুদি
শারীরচর্চার আগে দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে কলার স্মুদি খেতে পারেন। কলায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরের শক্তির অন্যতম উৎস। পাশাপাশি, পটাশিয়ামও পাওয়া যায়। একটি পাকা কলা ২০০-২৫০ মিলিলিটার দুধের সঙ্গে ব্লেন্ড করে তৈরি করতে পারেন এই পানীয়। প্রয়োজনে সামান্য জল মিশিয়ে পাতলা করে নিন। চিনি বা সিরাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জিমে ভারী ব্যায়াম করতে গেলে বা বেশ কিছুক্ষণ না খেয়ে থাকলে এই স্মুদি কাজে আসতে পারে। তবে ব্যায়ামের অন্তত ৬০-৯০ মিনিট আগে পান করা ভাল। খুব কাছাকাছি সময়ে খেলে পেট ভার লাগতে পারে। যাঁদের ল্যাকটোজ় সহ্য হয় না, তাঁরা ল্যাকটোজ়-মুক্ত দুধ ব্যবহার করতে পারেন, যাতে শরীর প্রোটিন পায়। কোনও প্রকার দুধ পছন্দ না হলে শুধু কলাই খেতে হবে।
৩. ডাবের জল
ব্যায়ামের আগে দেহে জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের জল খেতে পারেন। এতে পটাশিয়াম-সহ কিছু ইলেকট্রোলাইট থাকে। পাশাপাশি অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেটও পাওয়া যায়। যাঁরা সাধারণ জলের বদলে হালকা স্বাদের কোনও পানীয় পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি ভাল বিকল্প হতে পারে। ব্যায়ামের ৩০-৬০ মিনিট আগে এক গ্লাস ডাবের জল পান করতে পারেন। তবে ডাবের জলে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই দীর্ঘক্ষণ কঠিন শারীরচর্চা করে প্রচুর ঘাম হলে শুধু ডাবের জল দিয়ে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন না। এক ঘণ্টার জন্য হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম করলে ডাবের জল চলতে পারে।
৪. ওট্সের স্মুদি
২০০-২৫০ মিলিলিটার দুধের সঙ্গে ২০-৩০ গ্রাম ওট্স ভাল করে ব্লেন্ড করে খেয়ে নিতে পারেন। চাইলে এতে একটি কলাও মেশানো যেতে পারে। সকালে ব্যায়ামের আগে একটু পেট ভরে কিছু খেতে চাইলে ওট্সের এই স্মুদি তৈরি করতে পারেন। ওট্সে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। দুধ মেশালে পাওয়া যাবে প্রোটিনও। কলা দিলে আরও একটু কার্বোহাইড্রেট যোগ হবে। ফলে দীর্ঘক্ষণ শারীরচর্চার আগে এই পুষ্টিকর খাবারটি খেতে পারেন। ব্যায়ামের অন্তত ৬০-১২০ মিনিট আগে এই পানীয় পান করা ভাল।
৫. বিটের রস
শারীরচর্চার আগে বিটের রস খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে। কারণ, বিটে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, শরীরে এই নাইট্রেট থেকে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হতে পারে, যা রক্তনালির কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাবার থেকে পাওয়া নাইট্রেট শারীরচর্চার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। ব্যায়ামের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপরেও তা নির্ভর করে। একটি ছোট বিট ভাল করে ধুয়ে জল দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। স্বাদের জন্য সামান্য লেবুর রস মেশানো যায়। বিটের রস সাধারণত ব্যায়ামের ২-৩ ঘণ্টা আগে পান করা হয়।