বেড়াতে গেলে খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মানা হয় না, শারীরচর্চাও চলে যায় ছুটিতে। ফলে ছুটি কাটিয়ে ফিরে এসে অনেকেই দেখেন, ওজন বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, পেটখারাপ, বদহজম তো লেগেই থাকে। তা হলে বেড়াতে গিয়েও ডায়েট করতে হবে? কিন্তু চেন্নাই নিবাসী ফিটনেস প্রশিক্ষক রাজ গণপতের মতে, বেড়াতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দিয়ে ডায়েট করার প্রয়োজন নেই। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ছুটির আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরও সুস্থ রাখা সম্ভব।
বেড়াতে গেলে স্থানীয় খাবার না খেলেই নয়, এ দিক ও দিক ঘুরে বেড়াতে গিয়ে খাওয়ায় দেরিও হয়ে যায়। এগুলি তো বেড়ানোরই অংশ। আর তার সঙ্গে আপস করার মানে হয় না।
বেড়াতে গিয়ে কী ভাবে নিজের যত্ন নেবেন? ছবি: সংগৃহীত
সে ক্ষেত্রে কোন নিয়মগুলি মেনে চলা উচিত?
১. পুষ্টির দিকে নজর: বেড়াতে গেলে যেমন নিজে রান্না করা সম্ভব নয়, তেমনই ক্যালোরি মেপে খাওয়াও প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বাইরে খাওয়ার সময়ে পুষ্টির বিষয়ে খানিক সতর্ক থাকলেই হবে। চেষ্টা করবেন, যাতে চর্বিহীন প্রোটিন বেশি পরিমাণে খাওয়া যায়, প্রতি বেলাই পাতে শাকসব্জি ও ফলমূল রাখা যায়। অতিরিক্ত তেলমশলাদার খাবার যথাসম্ভব বুঝেশুনে খেলে উপকৃত হবেন।
২. সক্রিয় থাকা: নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করতেই কাছাকাছি কোথাও গেলে সব সময় গাড়িঘোড়া ব্যবহার না করে হেঁটে গেলে শারীরচর্চাও হবে, আবার নতুন জায়গাকেও কাছ থেকে চেনা যাবে। সে সুযোগ না পেলে হোটেলের জিমেই না হয় সময় কাটাবেন দিনে আধটি ঘণ্টা।
৩. পর্যাপ্ত জলপান: পর্যাপ্ত জল পান করাও অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সফর, গরম বা প্রবল ঠান্ডা আবহাওয়া বা সারা দিন ঘোরাঘুরির কারণে শরীরে সহজেই জলের ঘাটতি হতে পারে। অনেকে আবার বাইরে শৌচালয় ব্যবহারের ভয়ে জলপান করেন না। কিন্তু তাতে জলশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে শরীরে। তাই সঙ্গে সব সময় জলের বোতল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
কোন নিয়মগুলি মেনে চলা উচিত? ছবি: সংগৃহীত
৪. মদ্যপান কমানো: অনেকেই বেড়াতে গেলে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ফেলেন। তাতে জলশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। মদ্যপানের পাশাপাশি ভাজাভুজি খাওয়াও চলতে থাকে। সব মিলিয়ে শরীরে বাড়তি চাপ পড়ে এতে। পরের দিনও সেই রেশ থেকে যায়। ফলে মদ্যপান বাদ দিয়ে দেওয়া বা কম খাওয়া প্রয়োজন বেড়াতে গেলে।
৫. পরিকল্পনা: সফর শুরুর আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন কী কী ভাবে খাওয়াদাওয়া করবেন। যেখানে যাবেন, সেখানকার রেস্তরাঁ ও হোটেল সম্পর্কে আগে থেকে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল হয়ে গেলে সুবিধা হবে। সেই মতো নিজের খাওয়াদাওয়া সম্পর্কে পরিকল্পনা করে নেওয়া যাবে আগে থেকে।
আরও পড়ুন:
সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ছুটিতে নিয়মভঙ্গ হলেই অপরাধবোধে ভুগতে হবে না। এক-দু’দিন একটু বেশি খেয়ে ফেললে বা শারীরচর্চা না হলে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তারও প্রয়োজন নেই। গুরুত্বপূর্ণ হল, পুরো সফরের সময়ে যতটা সম্ভব ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ফিরে এসে আবার নিয়মিত রুটিনে ফিরে যাওয়া।