ব্যস্ত জীবনে ডায়েটতালিকা মিলিয়ে মিলিয়ে রান্না করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। অফিস, যাতায়াত, সংসার— সব সামলে প্রতি দিন স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। ফলে ভরসা করতে হয় বাইরে থেকে অর্ডার করা খাবার, প্যাকেটজাত খাবার বা যা হাতের কাছে পাওয়া যায়, তার উপরেই। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করতে গেলে রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর প্রয়োজন নেই। একটু পরিকল্পনা করলেই ব্যস্ত জীবনেও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সম্ভব।
১. সবচেয়ে আগে প্রয়োজন, পরিকল্পনা। সপ্তাহের শুরুতেই কী কী খাবার খাওয়া হবে, তার একটা মোটামুটি তালিকা তৈরি করে রাখলে প্রতি দিন কী রান্না করবেন, তা নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না। এতে সময়ও বাঁচে, আবার হঠাৎ অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
রান্নার কৌশল শিখে নিন। ছবি: সংগৃহীত
২. এক বারে একটু বেশি করে রান্না করলে সুবিধা হবে। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি এক বারে দু’বেলার রান্না করা যায়। এর ফলে বেশি ক্ষণ ফ্রিজেও রাখতে হবে না খাবার। ডাল, রাজমা অথবা অন্যান্য প্রোটিননির্ভর খাবার রেঁধে রাখা যায়।
৩. রান্নার কাজ কম খাটনির এবং সহজ করতে এমন উপকরণ বেছে নিতে পারেন, যেগুলি দ্রুত কাটাকুটি করা যায়। এমন সব্জি বেছে নিন, যেগুলি কাটা সহজ, যেমন পটল, কুমড়ো, ক্যাপসিকাম, ঢেঁড়স ইত্যাদি। এঁচোড় বা মোচা, থোড় অথবা বাটা মশলা প্রস্তুত করতে সময় অনেক বেশি লেগে যায়। কিন্তু বাকিগুলির ক্ষেত্রে জোগাড় হয়ে গেলে রান্না কয়েক মিনিটের মধ্যেই হয়ে যাবে। সব খাবারই যে জটিল হতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। তা ছাড়া আনাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বুদ্ধি খাটাতে হবে।
আরও পড়ুন:
৪. রান্নাঘরে সব সময়ে কিছু স্বাস্থ্যকর উপকরণ মজুত রাখতে হবে। যেমন, ওট্স, ডাল, বাদাম, বীজ, ছোলা, মশলা এবং দীর্ঘদিন ভাল থাকে এমন কিছু সব্জি। দরকারে হিমায়িত সব্জিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন বাজারও করতে হবে না, আবার বাইরে থেকে খাবার আনানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
৫. স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অর্থ নিখুঁত ভাবে রান্না করা নয়। প্রতি বেলা অজস্র খুঁটিনাটি নিয়ম মেনে চলা সব সময় সম্ভবও নয়। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া এবং পরিমাণের দিকে নজর রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।