বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা গলা পর্যন্ত অ্যাসিড উঠে আসার মতো সমস্যা হলে খাবারের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো এবং শরীরকে সক্রিয় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় হালকা যোগাসন কারও কারও উপকারে আসতে পারে। তেমনই এক বিশেষ আসনের কথা বললেন উত্তরাখণ্ডের রুড়কী নিবাসী যোগ প্রশিক্ষক শালু চৌধরী। ইনস্টাগ্রামে আসনের ভিডিয়ো পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স? ৫ মিনিট এটি অভ্যাস করুন। মিষ্টি এবং জাঙ্ক ফু়ড এড়়িয়ে চলুন দয়া করে।’’
কী সেই আসন?
যোগ প্রশিক্ষক সুপ্ত বদ্ধ কোণাসন বা রিক্লাইনিং বাউন্ড অ্যাঙ্গল পোজ়ের কথা বললেন। একটি আরামদায়ক আসন। শরীরকে শিথিল করে এবং ধীরে শ্বাস নিয়ে অভ্যাস করতে হবে এটি।
সুপ্ত বদ্ধ কোণাসন। ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে করে?
• যোগাসনের ম্যাট বা মাদুর পাতুন।
• প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পা দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন।
• এ বার হাঁটু দুটো ভেঙে পায়ের পাতা দু’টিকে একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দিন। আপনার গোড়ালি দু’টিকে যতটা সম্ভব কুঁচকির কাছাকাছি নিয়ে আসুন। এটি দেখতে সাধারণ ‘বদ্ধ কোণাসন’ বা প্রজাপতি আসনের মতো লাগবে।
• হাতের তালু দু’টিকে নিতম্বের পিছনে মেঝেতে রাখুন। এ বার কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে আস্তে আস্তে পিঠ মেঝেয় ঠেকিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। মাথা ও ঘাড় যেন মেঝেতে বিশ্রাম পায়।
• হাত দু’টিকে শরীরের দু’পাশে আরামদায়ক ভঙ্গিতে রাখুন। হাতের তালু আকাশের দিকে মুখ করে থাকবে। অথবা, একটি হাত পেটে এবং অন্য হাতটি বুকের উপর রাখতে পারেন। কিংবা দুটো হাতই মাথার উপরে রাখা যেতে পারে।
রিক্লাইনিং বাউন্ড অ্যাঙ্গল পোজ়। ছবি: সংগৃহীত
• চোখ বন্ধ করুন। কাঁধ আলগা রাখুন। ঊরু এবং কুঁচকির পেশি সম্পূর্ণ শিথিল করে দিন, যাতে হাঁটু দু’টি মাধ্যাকর্ষণের টানে স্বাভাবিক ভাবে মেঝের দিকে ঝুলে থাকে। এই অবস্থায় গভীর এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিন।
এটি কতটা কার্যকর?
মাথায় রাখতে হবে, এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসা নয়। সুপ্ত বদ্ধ কোণাসন পাকস্থলীর অ্যাসিডকে সরাসরি কমায় না এবং খাদ্যনালিতে অ্যাসিড উঠে আসার মূল কারণও দূর করে না। তবে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক রয়েছে। চাপ বাড়লে অনেকের রিফ্লাক্সের উপসর্গও বাড়তে পারে। যোগাসনের সঙ্গে ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও শরীরকে শিথিল করার অভ্যাস যুক্ত থাকায় তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সেই কারণেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণে যোগাসনকে সহায়ক হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু শুধু যোগাসন করলেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স সেরে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তা ছাড়া খাওয়ার পর অ্যাসিড হচ্ছে বলে যোগাসন করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, খাওয়ার পর শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বেড়ে যায়। তাই খাওয়ার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে হালকা যোগাসন করা ভাল। রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে এমন আসন বেছে নেওয়া উচিত যাতে পেটে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। আর যদি নিয়মিত বুক জ্বালা, খাবার গেলায় সমস্যা, বার বার বমি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকে, তা হলে শুধু যোগাসনের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।