বড় পর্দায় চরিত্র বদলে যায়, এর পাশাপাশি বদলে যায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের লুক! কোনও ছবিতে প্রয়োজন পেশিবহুল চেহারার, আবার কোনও ছবিতে চাহিদা শীর্ণকায় যুবকের। তাই অভিনেতাদের শরীর নিয়ে জাগলিং চলতেই থাকে। চরিত্রের প্রয়োজনে একাধিক বার ওজনে বদল আনতে হয়েছিল পরিচালক ও অভিনেতা কুণাল খেমুকে।
কী ভাবে বই পড়ে আর অন্য অভিনেতাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফিটনেস যাত্রা শুরু করেছিলেন কুণাল, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সে কথা জানান তিনি। শরীরের আমূল বদল প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, ‘‘বিষয়টি খুব কঠিন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিনেতাদের কেবল ওজনই কমাতে হয় না, বরং পেশির ভরও কমাতে হয়। গোটা প্রক্রিয়ায় মেজাজে ভীষণ বদল আসে। অনেক সময়ই মেজাজ বিগড়ে যায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের উপরেও প্রভাব পড়ে।’’
কুণাল জানান, ‘গো গোয়া গন’ ছবির জন্য তিনি ওজন কমিয়েছিলেন, তবে পরিচালক রাজ এবং ডিকে-র একটি প্রজেক্টের প্রয়োজনে বেশ খানিকটা ওজন বাড়াতেও হয়েছিল তাঁকে। কুণাল বলেন, ‘‘জীবনে সেই প্রথম বার আমার ওজন ৮০ কেজি ছুঁয়েছিল। পর্দায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি ভারোত্তোলন করতাম আর প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতাম।’’
অভিনেতার মতে, ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়েটের ভূমিকা থাকে। গোটা প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক ভাবে করতে হলে অনেকটা সময়ও লাগে। কুণাল বলেন, ‘’৮০ কেজি থেকে ওজন কমিয়ে ৭১-৭২ কেজি করতে আমার প্রায় একটা গোটা বছর লেগে গিয়েছিল।’’
ওজন ঝরানোর জন্য ‘ওয়াটার ফাস্টিং’ করেন কুণাল। ২৪ ঘণ্টা শুধু জল খেয়েই থাকতেন তিনি। সপ্তাহে এক দিন করে শুধু জল খেয়েই কাটাতেন কুণাল। প্রায় ৭ সপ্তাহ ‘ওয়াটার ফাস্টিং’ করেন অভিনেতা। সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে তিনি ১৬ ঘণ্টার ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ করতেন। কুণাল বলেন, ‘‘আমার মনে হয় শরীর ভিতর থেকে ভাল রাখতে, শরীরে মেরামতির জন্য এবং বয়স ধরে রাখার জন্য উপোসের তুলনা নেই।’’