ঘরে ঘরে জ্বর। জ্বর না থাকলেও দোসর সর্দি-কাশি। গলা ব্যথার পাশাপাশি গলায় খুসখুসে ভাবের জেরে থামছে না কাশি। চিকিৎসকেরা বলছেন, বিভিন্ন ভাইরাস সংক্রমণের জেরে জ্বর, সর্দি-কাশি হচ্ছে। তা ছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জাও হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে অ্যালার্জি।
কাশির জন্য কফ সিরাপ রয়েছে। তবে ওষুধ খেলেও কাশি একবারে কমে না। ওষুধের পাশাপাশি নিতে পারেন পথ্য। ভারতীয় সংস্কৃতিতে এমন ঘরোয়া টোটকা নেহাত কম নয়।
কাড়া
কোভিডের সময়ে ঘরে ঘরে কাড়া বা রকমারি মশলা ফোটানো জল খাওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছিল। সেই কাড়াই হতে পারে কষ্টের উপশম। দারচিনি, আদা, তুলসীপাতা, গোলমরিচ, লবঙ্গ ২ কাপ জলে দিয়ে আঁচ কমিয়ে ফোটাতে থাকুন। জলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক হওয়া পর্যন্ত ফোটাতে হবে। মিশ্রণটি ছেঁকে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে, সেটি গরম গরম চায়ের মতো পান করুন। গলায় আরাম লাগবে। কাশিও কমবে ধীরে ধীরে। তুলসীপাতা, আদা, লবঙ্গ প্রতিটি উপাদানই অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল। তা ছাড়া, তাদের নিজস্ব ভেষজ গুণও রয়েছে।
বাসকপাতার জল
অ্যালোপ্যাথির মতো ওষুধ যখন সহজলভ্য ছিল না, তখন সর্দিকাশি সারাতে বাসকপাতার উপরেই ভরসা করেছেন লোকে। কফ সিরাপ খেয়েও অনেক সময় কাশি সারতে না চাইলে, ঘরে ঘরে এখনও বাসক পাতা ফোটানো জল খাওয়ানো হয়। বাসকপাতা, তুলসীপাতা, আদা কুচি, তালমিছরি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিন। ডায়াবিটিস থাকলে, তালমিছরি বাদ দিতে পারেন বা তালমিছরি না থাকলে মধু যোগ করতে পারেন। সমস্ত উপকরণ ফুটিয়ে ছেঁকে গরম অবস্থায় চায়ের মতো পান করুন। দিনে দু’বার, তার বেশি নয়।
তুলসীপাতার রস এবং মধু
তুলসীপাতা থেঁতো করে রস বার করে নিন। তার সঙ্গে যোগ করুন আদার রস এবং মধু। হালকা গরম করে মিশ্রণটি এক কাপ গরম জলে ঢেলে দিন। চায়ের মতো পান করুন। সর্দি-কাশি সারাতে তুলসীপাতা দারুণ কাজের। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান।
এ ছাড়াও মুখে রাখুন শুকনো আদা, লবঙ্গ, তালমিছরি। এতেও কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে।