মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। মনে হল, অফিসের শেষ কাজটা ঠিক করে করেছিলাম তো? অমুক জায়গায় হিসাবটা মিলেছিল তো? চিন্তার এই দুলুনিতে জন্ম ‘স্ট্রেস’ শব্দটির। যার দৌলতে হাসি-আনন্দ উধাও হচ্ছে। মনে জমছে বিষাদের মেঘ। শরীর নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অল্প কথাতেই উত্তেজিত হয়ে উঠছে মন। বিষণ্ণতা ও একাকিত্ব গ্রাস করছে নিঃশব্দে। এই অশান্ত মনকে শান্ত করার কী উপায়, সে নিয়ে কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী কুবরা সৈত। মানসিক নানা সমস্যায় ভুগেছেন দীর্ঘদিন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কুবরা জানিয়েছেন, মন ভাল রাখতে হলে তিনটি বিষয় মাথায় রাখতেই হবে।
অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজ়অর্ডার বা এডিএইচডি-তে ভুগেছেন, যখন কুবরা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন। বয়ঃসন্ধি পর্ব থেকে বিষণ্ণতা ও অবসাদও গ্রাস করে তাঁকে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, মানসিক নানা সমস্যার টানাপড়েনে বিধ্বস্ত ছিলেন একসময়ে। আত্মবিশ্বাস তলানিতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন নিজেই। মানসিক রোগকে দুর্বলতা না ভেবে, লড়াই করার শক্তি হিসেবে দেখেন কুবরা। আর এই মনোভাবই তাঁকে সবরকম জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।
কুবরা জানিয়েছেন, মন যদি ভাল রাখতে হয়, তা হলে তিনি বিষয়ে নজর দিতে হবে—
১) তাড়াহুড়ো করে নিজের আবেগকে কোনও নেতিবাচক নাম দেবেন না। অনেক সময়ে সামান্য ক্লান্তি বা হতাশা এলেই তাকে অবসাদ বা কোনও মনোরোগের নাম দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কমবেশি সকলেরই আছে। অবসাদ বা ডিপ্রেশন, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা— এগুলি জটিল বিষয়। সাধারণ হতাশা বা মনখারাপের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তাই নিজ অনুভূতিগুলিকে আলাদা করা শিখতে হবে। কী কারণে হতাশ লাগছে বা মন ভাল নেই, সেই কারণটিকে খুঁজে বার করার চেষ্টা করতে হবে। আবেগের সঠিক কারণ না বুঝে অতিরিক্ত চিন্তায় ডুবে গেলে বা জটিল কোনও অসুখ হয়েছে ভেবে ফেললে, আখেরে ক্ষতিই হবে। নেতিবাচক চিন্তা থেকেও মনোরোগ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
২) কুবরা মনে করেন আনন্দ হোক বা দুঃখ, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা প্রয়োজন। মনের উপর চাপ বাড়লে, তার ভার একা না বয়ে, বরং কাছের মানুষ বা আপনজনদের জানালে লাভই হবে। অত্যধিক মানসিক চাপের সময়ে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। একাকিত্বে ভোগেন। এই প্রবণতা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাজেই ভাবতে হবে, আপনি একা নন। ওই সময়ে আরও কাছের মানুষজনের সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করে নিলে মনের ভার কমবে। সমস্যার সমাধানও বেরিয়ে আসতে পারে সে ভাবেই।
৩) মানসিক টানাপড়েন থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব মনে হলে, দেরি না করে মনোরোগ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতেই হবে। কুবরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত কাউন্সেলিং ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তিনি জটিল মানসিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। মেডিটেশন বা ধ্যান করে বাইরে থেকে মনকে শান্ত করা যায় ঠিকই, কিন্তু অবচেতন মনকে সামলানোর জন্য অভিজ্ঞ কারও পরামর্শই প্রয়োজন।