সকালের শুরুতে এক কাপ গরম পানীয় অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। স্বাস্থ্যসচেতনেরা কেউ দিন শুরু করেন কালো কফি দিয়ে, কেউ আবার গ্রিন টি-তে ভরসা রাখেন। এই দুই পানীয়ের উপকারিতা নিয়ে দ্বন্দ্বের শেষ নেই। যাঁরা কফিপ্রেমী, তাঁরা বলেন, বেশি গ্রিন টি খেতে নেই। যাঁরা গ্রিন টি ভালবাসেন, তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্যের পক্ষে কফি মোটেও ভাল নয়।
এ দিকে পরিমিত পরিমাণে খেলে দু’টি পানীয়েরই গুণ অনেক। তুলনায় কম ক্যালোরিযুক্ত এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। দুধ এবং চিনি ছাড়া খেলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কিন্তু দুই পানীয় নিয়ে মূলত যে প্রশ্নটি ওঠে, ওজন কমানো কিংবা ডায়াবিটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী? তার আগে জেনে নিন এগুলির উপকারিতা।
কালো কফি। ছবি: সংগৃহীত
কালো কফির গুণ
· নরেপিনেফ্রিন এবং ডোপামাইন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে কফির ক্যাফিন। এর ফলে মস্তিষ্ক বেশি তীক্ষ্ণ হয় কিছুক্ষণের জন্য। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়।
· কালো কফির অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের কারণে প্রদাহ কমতে পারে, তা ছাড়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।
· বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করতে পারে ক্যাফিন। এর ফলে ওজন কমানোয় সুবিধা হয়।
· কফি অ্যাড্রিনালিনের নিঃসরণ বাড়াতে পারে বলে শারীরিক সক্রিয়তাও বৃদ্ধি পায়।
· কোনও কোনও গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কফি টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভাল।
গ্রিন টি-র গুণাবলি
· প্রদাহ হ্রাস থেকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্রিন টি-র ক্যাটেকিন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট।
· গ্রিন টি বিপাকীয় হার বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং ফ্যাট গলাতে পারে বলে দাবি অনেক পুষ্টিবিদের।
· গ্রিন টি-র অ্যামিনো অ্যাসিড এল-থিয়ানিন এবং ক্যাফিন একসঙ্গে কাজ করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাজে মনও বসে ভাল। অনেকের ক্ষেত্রে মনমেজাজ ভাল হয় গ্রিন টি পান করলে।
· একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গ্রিন টি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়িয়ে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স কমাতে পারে।
· ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতেও কার্যকর গ্রিন টি।
গ্রিন টি। ছবি: সংগৃহীত
ডায়াবিটিসের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর
চিনি ছাড়া কালো কফি এবং গ্রিন টি— দু’টিই প্রায় ক্যালোরিবিহীন পানীয়। নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। কফিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং গ্লুকোজ় বিপাকে ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্রিন টি-র ক্ষেত্রেও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বেড়ে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স কমতে পারে। এই চায়ে থাকা ক্যাটেকিন, বিশেষ করে ইজিসিজি মুখ্যত কাজ করে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কফিতে থাকা ক্যাফিন কারও কারও ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতেও পারে। তাই ডায়াবিটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কফি পান করা উচিত।
ওজন কমানোর জন্য কোন পানীয় খাবেন
কালো কফি এবং গ্রিন টি, দুই পানীয়ই ওজন হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিপাকীয় হার বাড়াতে পারে এই দু’টিই। কফি খেলে খানিকক্ষণের জন্য পেট ভরা থাকে। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। অন্য দিকে, গ্রিন টি-তে ক্যাফিনের পরিমাণ কম, কিন্তু ইজিসিজি-র গুণে বেশি পরিমাণে ফ্যাট জমতে পারে না শরীরে। তবে শারীরচর্চার আগে কফি খেলে ক্যালোরি পোড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
তা হলে কখন কোনটি খাবেন?
শারীরচর্চার আগে কফি পান করতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে শরীর চাঙ্গা হয়ে যাবে, পেট ভরা থাকবে খানিকক্ষণের জন্য। আর যদি ক্যাফিন ছাড়াই ফ্যাট গলাতে চান, ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান, তা হলে অবশ্যই গ্রিন টি বেশি উপকারী।