সর্দি-কাশি, জ্বর ঘরে ঘরে। শুকনো কাশি, গলাব্যথা সারতে চাইছে না। ওষুধ খেয়েও লাভ হচ্ছে না খুব একটা। তার মধ্যে ভোগাচ্ছে পেটের সমস্যাও। চিকিৎসকেরা বলছেন, খামখেয়ালি আবহাওয়ায় নানা ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার দাপট বাড়ছে। সেই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লুয়ের মতো সংক্রামক ব্যাধিও মাথাচাড়া দিচ্ছে। শরীর দুর্বল হলে বা ক্রনিক রোগ থাকলে, সংক্রমণ হচ্ছে বেশি। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কেবল ওষুধে ভরসা করলে চলবে না। এমন কিছু ব্যায়ামও অভ্যাস করতে হবে যা ফুসফুস ভাল রাখবে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ শক্তিও বৃদ্ধি করবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বাড়ে অর্থাৎ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে। ফলে চট করে সংক্রমণ হয় না। ব্যায়াম করলে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুততর হয়। তাজা বাতাস জীবাণুদের বার করে দিতে সাহায্য করে। কাজেই যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাঁদের চট করে সর্দি-কাশি ও শ্বাসনালির সংক্রমণ হয় না।
কপালভাতি
যে ব্যায়ামটি সবচেয়ে আগে করবেন তা হল কপালভাতি। একধরনের প্রাণায়াম যা ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের প্রতিরোধশক্তিও বাড়িয়ে তোলে। আরামদায়ক কোনও একটি আসনের ভঙ্গিতে বসুন, তা পদ্মাসন, বজ্রাসন বা সুখাসনও হতে পারে। মাথা ও পিঠ সোজা রাখুন। চোখ বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন গোটা শরীর। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস ছাড়ার সময়ে পেটের পেশির উপর চাপ দিতে হবে। দ্রুত শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। প্রথম শুরু করলে প্রতি দশ বারে একটি সেট করুন। মোট পাঁচটি সেটে এই প্রাণায়াম অভ্যাস করতে হবে।
আরও পড়ুন:
অ্যাব ব্রিদিং
পিঠ সোজা করে পদ্মাসনে বা সুখাসনে বসতে হবে। নাক দিয়ে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে। সাধ্যমতো কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে তার পর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিতে হবে। পুরো পদ্ধতিটি সাত-আট বার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শ্বাস নেওয়ার সময়ে নাভি যেন বাইরের দিকে ঠেলে ওঠে এবং শ্বাস ছাড়ার সময়ে যেন তা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
চেয়ার-যোগ ব্রিদিং
চেয়ারে সোজা হয়ে পিঠ টানটান করে বসুন। খেয়াল রাখবেন, ঘাড়, পিঠ ও মাথা যেন একই সরলরেখায় থাকে। দুই হাতের আঙুলগুলি একত্র করে কোলের উপর রাখতে পারেন, অথবা হাঁটুর উপরে দুই হাত জ্ঞানমুদ্রায় রাখতে পারেন। চোখ বন্ধ করে মন স্থির করতে হবে। এ বারে গভীর ভাবে শ্বাস টানুন, তা ধরে রাখুন অন্তত ১০ সেকেন্ড। এর পর ২০ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে।