কী খাবেন, কী খাবেন না, কোনটি কতটা খেলে ক্ষতি বাড়বে, কতটা খেলে লাভ হবে, কখন কোনটি খাওয়া উচিত, কখন কী খাওয়া উচিত নয়— এমন অনেক তথ্য দিনভর কানের কাছে বলে চলেছেন বহু মানুষ। কেউ নিজেকে চিকিৎসক বলে দাবি করছেন, কেউ বলছেন পুষ্টিবিদ, কেউ আবার স্বশিক্ষিত যাপন প্রশিক্ষক। আর প্রত্যেকেরই দাবি— তাঁদের টোটকাটি মানলে চেহারা হবে খোলতাই।
মানুষ সুন্দরের পুজারী। সুন্দর চেহারা চান না এমন মানুষ হয়তো আছেন, তবে তাঁরা বড় একটা চোখে পড়েন না। বাকিরা নিজেকে সুন্দর রাখতে নানা টোটকা নিজের উপর প্রয়োগ করে দেখেন। কাজ হলে ভাল, না হলেও হতাশ না হয়ে আবার শুনতে শুরু করেন নতুন পরামর্শ। তেমনই এক টোটকায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার এক সহজ সমাধান দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে যদি কিছু প্রোটিন খেয়ে নেওয়া যায়, তবে ওজন কমবে। কিন্তু সেই তথ্য কি সত্যিই ঠিক?
যাঁরা ওই দাবি করছেন তাঁরা যুক্তি হিসেবে বলছেন, শর্করা রক্তে সহজে মিশে যায়। কিন্তু তার আগে যদি প্রোটিন খাওয়া হয় তবে তা হজম হতে সময় নেয়। খাবার ধীরে ধীরে ভাঙে। ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করাও মেশে ধীরে ধীরে। ইনসুলিন স্পাইক হওয়ার সুযোগ নেই। ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে যেহেতু পরোক্ষে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির যোগ আছে, তাই তা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে! কিন্তু ব্যাখ্যাটি অত সহজ নয়। ধারণাটি পুরোপুরি ঠিকও নয়। এর জন্য কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।
শর্করা খাওয়ার আগে প্রোটিন খেলে শরীরে কী ঘটে?
সরাসরি ভাত বা রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত লাফিয়ে বাড়ে, যা কমাতে প্রচুর ইনসুলিন হরমোন ক্ষরিত হয়। কিন্তু প্রোটিন আগে খেলে রক্তে গ্লুকোজ খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে অতিরিক্ত ইনসুলিন ক্ষরণের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু , ইনসুলিন একটি ফ্যাট-স্টোরিং হরমোন, তাই বেশি ক্ষরণ হলে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীরে ফ্যাট জমার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রোটিন আগে খেলে যেহেতু অধিক ইনসুলিন ক্ষরণের প্রয়োজন পড়ে না তাই, মেদ জমার প্রবণতা আলাদা করে বাড়ে না। তার মানে এই নয় যে এ ভাবে খাবার খেলেই ওজন কমবে। বরং বলা যেতে পারে এই কৌশলটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং রক্তের শর্করা বশে রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি।
দীর্ঘ মেয়াদে এই অভ্যাস কি উপকারী?
এই পদ্ধতি পরোক্ষে ওজন বাড়তে দেয় না। কিন্তু শুধু খাওয়ার ক্রম বদলালেই ক্যালোরি উধাও হয়ে যায় না। ওজন কমাতে হলে সবার আগে দরকার মোট ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি। প্রোটিন ও ফাইবার আগে খেলে পেট দ্রুত ভরে যায়, ফলে মানুষ তার পরে ভাত-রুটি কম খান। এছাড়া ব্লাড সুগার স্থির থাকায় ঘন ঘন খিদে বা মিষ্টি খাওয়ার ক্রেভিংও হয় না।
যা যা মনে রাখা জরুরি
১। প্রোটিন খাওয়ার পর যদি প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরিযুক্ত শর্করা বা প্রসেসড ফুড খাওয়া হয়, তবে অতিরিক্ত ক্যালোরির কারণে অবশ্যই ওজন বাড়বে। সেখানে শুধুমাত্র খাওয়ার ক্রম কোনও সুবিধা করতে পারবে না।
২। টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং প্রিডায়াবিটিস রোগীদের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী। খাওয়ার পরবর্তী সুগার স্পাইক রোধ করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শর্করা খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে প্রোটিন ও শাকসব্জি খেলে খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা ২০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কম বৃদ্ধি পায়।