গ্যাস, অম্বল মাঝে মাঝে হলে একরকম। কিন্তু প্রতি দিনই যদি চোঁয়া ঢেঁকুর, বুকজ্বালা নিত্যসঙ্গী হয়, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে তো বটেই! দরকার স্থায়ী সমাধান খোঁজাও। চিকিৎসকেরা বলছেন, যখন পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু মুখগহ্বর এবং পাকস্থলীর সংযোগকারী খাদ্যনালীর মধ্য দিয়ে উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়, তখনই মুখ টক হয়ে যায়, বুক জ্বালা, পেট জ্বালা করে। একে বলা হয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ওষুধ অম্বলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তবে কেউ কেউ বলতে পারেন, হালকা স্ট্রেচিং-এ অম্বলের সমস্যায় কখনও কখনও স্বস্তি মেলে। স্ট্রেচিং হল শরীরের পেশি প্রসারণ এবং পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার একটি ব্যায়াম। এতে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। বেশি কায়িক শ্রমের শারীরচর্চা বা ওজন তোলার সময়ে হঠাৎ চোট লাগার ঝুঁকি এড়াতেই স্ট্রেচিং করানো হয়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু স্ট্রেচিং কি অম্বলের সমস্যা কমাতে পারে? চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়লে বা হাঁটাচলা না করে বসে থাকলে অম্বলের সমস্যা আরও বা়ড়ে। কেউ কেউ হালকা স্ট্রেচিং- এ লাভবান হন। তার কারণ, হল শরীর সঞ্চালন হলে, অনেক সময়ে পেটে জমা গ্যাস বেরিয়ে যায়।
ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা সতর্ক করছেন, ভরপেট খাওয়ার পরে শারীরচর্চা করা চলে না। বিশেষত পেট খালি হওয়ার আগে অতিরিক্ত কায়িকশ্রমের ব্যায়াম একেবারেই অনুচিত। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে, পাকস্থলীর অ্যাসিড উল্টোদিকে প্রবাহিত হতে পারে।
অম্বল বা বদহজম কমাতে বরং খাওয়ার পরে মিনিট ৫ বিশ্রাম নিয়ে ১০ মিনিট পায়চারি করা উচিত। জোরে হাঁটা নয়, বরং হাঁটতে হবে মৃদু গতিতে। খাওয়ার এক-আধঘণ্টা পরে দাঁড়িয়ে হালকা ধরনের স্ট্রেচিং করলে, অনেক সময়ে পেট হালকা লাগে, বা পেটভারের অস্বস্তি কমে। আবার, একটানা বসে থাকার পর বুকের বা কাঁধের স্ট্রেচিং-এ রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
অম্বলের সমাধান স্ট্রেচিং নয়। তবে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্ট্রেচিং-এর অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে পেশি বা অস্থিসন্ধিতে চোট পাওয়ার ঝুঁকিও কমে। অম্বল কমাতে খাদাভ্যাসে বদল দরকার। প্রয়োজন নিয়ম করে শারীরচর্চা। কিছু কিছু যোগাসনও পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।