সারাদিন অফিসে বসে কাজ, তার উপর যাতায়াতের ধকল। দিনের শেষে শারীরচর্চার জন্য আলাদা করে সময় বার করা যেন আরও একটা কাজের চাপ। অথচ শরীরকে সচল রাখতে হাঁটার জুড়ি নেই। তাই বলে প্রতিদিন ভোরে উঠে একটানা কয়েক কিলোমিটার হাঁটতেই হবে, এমন নয়। বরং অফিসের ব্যস্ততার মধ্যেই একটু একটু করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। কাজও হবে, হাঁটাও হবে। লক্ষ্য হতে পারে দিনে ১০ হাজার পা। কিন্তু কাজের মাঝে তা কী ভাবে সম্ভব?
দু’ভাবে লক্ষ্যপূরণ করতে পারেন। প্রথমটি হল ওয়াকিং প্যাড, দ্বিতীয় হল ফুরসত পেলেই হেঁটে হেঁটে কাজ করা। একটিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, অন্যটিতে নিজের বুদ্ধির।
ওয়াকিং প্যাড
কাজও করুন, আবার হাঁটুনও। এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ করে দিয়েছে নতুন ওয়াকিং প্যাড। একটানা বসে কাজ করার ক্ষতিকর অভ্যাস বদলে আমাদের সচল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে অফিসে এই যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা থাকে না বেশির ভাগেরই। সে ক্ষেত্রে যাঁরা বাড়ি বসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য সেরা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এটি টেবিলের নীচে সহজে সেট করা যায়, ফলে কাজ করার পাশাপাশি বা মিটিংয়ে কথা বলতে বলতেই অনায়াসে হাঁটাচলা করা সম্ভব। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে পিঠে ও কোমরে যে ব্যথা হয় তা কমায়, রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরে মেদ জমতে দেয় না। আলস্য দূর করে কাজে মনোযোগ বাড়াতেও দারুণ কার্যকর।
ফুরসতে হাঁটা
দিনে ১০ হাজার পা হাঁটার কথা শুনে অনেকেই ভাবেন, এর জন্য বুঝি দীর্ঘসময় বার করতে হবে। আদপে কিন্তু সারাদিনের ছোট ছোট হাঁটাও আপনার পদক্ষেপের সংখ্যা বাড়াতে পারে। অফিসে যাওয়ার আগে কিছুটা হাঁটা, কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট ঘোরাফেরা, দুপুরে খাওয়ার পর একটু পায়চারি— সব মিলিয়েই তৈরি হতে পারে দৈনিক হাঁটার অভ্যাস। কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটুন, কাজের বিষয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে পায়চারি করুন, মধ্যাহ্নভোজের পর অল্প একটু হেঁটে নিন, লিফ্টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, যাতায়াতের সময়েও বাড়ান পদক্ষেপ। বাড়ি ফিরেও হাঁটার সুযোগ রয়েছে, যেমন রাতে খাওয়ার পর খানিকক্ষণ রাস্তায় বা ছাদের হেঁটে নিন। তা হলে হজমও ভাল হবে, আবার ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্যও পূরণ হবে।