বর্ষার মরসুম মানেই অসুখবিসুখ! বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বরের সম্ভাবনা। বর্ষা নিয়ে এমন অনেক কথাই চালু আছে। বর্ষা এলেই বলা হয় খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানতে। সাবধান করা হয় বৃষ্টিতে ভেজা নিয়েও। সত্যিই কি এই মরসুম নিয়ে প্রচলিত সব ধারণা সঠিক?
বৃষ্টিতে ভেজা মানেই অসুখ: সত্যিই কি বৃষ্টিতে ভেজার সঙ্গে ঠান্ডা লাগার সম্পর্ক রয়েছে? নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক নীরজ কুমার এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, বৃষ্টির জল গায়ে লাগলেই কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বেন বা জ্বর আসবে সে কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ, সেই জলে রোগজীবাণু থাকে না। তবে অসুখ ছড়াতে পারে জমা জল থেকে। বৃষ্টিতে ভেজার পরে ভিজে কাপড়ে, ভিজে চুলে অনেক ক্ষণ থাকলে জল গায়ে বসে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তা থেকে সর্দি-কাশি, জ্বর হতে পারে।
চিকিৎসক বলছেন, বৃষ্টিতে ভিজলে স্নান করে গা-মাথা মুছে শুকনো জামা-কাপড় পরে নিন। ভিজে গায়ে এসি ঘরে থাকলে ঠান্ডা লাগবে।
তেল-মশলাদার খাবার নয়: বর্ষা মানেই নাকি পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা। ভাজাভুজি, তেল-মশলাদার খাবার খেলেই পেটের গন্ডগোল হবে এমন ভাবনায় বিশ্বাসী অনেকেই। প্রকৃত অর্থে কি তাই? চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন বর্ষায় পেটের অসুখের নেপথ্যে ভাজাভুজি বা মশলাদার খাবার থাকে না। বরং বর্ষায় জল জমে পাইপলাইনে ঢুকে যায়। নর্দমার নোংরা জল মিশে যায়। তার ফলে অপরিশোধিত জল, রাস্তার খাবার থেকে পেট খারাপের সম্ভাবনা বাড়ে।
বর্ষায় জ্বর সাধারণ ব্যাপার: বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লাগলে জ্বর হতে পারে। আবার এই সময়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েডেরও প্রকোপ বাড়ে। তাই জ্বর হলেই বিষয়টিকে লঘু করে দেখা অনুচিত। টানা তিন দিন জ্বর থাকলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, জ্বর না কমলে রক্তপরীক্ষা করাতে হবে।