Advertisement
E-Paper

ভ্রান্ত ধারণার জন্যই প্রস্টেট ক্যানসার চিহ্নিত হতে দেরি হয়, কোন ভুল ভাবনা শুধরে নেওয়া জরুরি

শুরুতেই রোগ নির্ণয় হলে প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা সহজ হতে পারে। সমস্যা হয় রোগীর সচেতনতার অভাব এবং ভ্রান্ত ধারণার জন্য। প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে ৫ ভ্রান্ত ধারণা শুধরে দিলেন চিকিৎসক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অগস্ট ২০২৬ ১৬:১৯
প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে কোন ভ্রান্ত ধারণা শুধরে নেওয়া জরুরি?

প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে কোন ভ্রান্ত ধারণা শুধরে নেওয়া জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিশ্ব জুড়েই বাড়ছে প্রস্টেট ক্যানসার। ভারতেও সেই সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। চিকিৎসকেরা এ জন্য দায়ী করছেন প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে অজ্ঞতা, ভ্রান্ত ধারণাকেই। কারণ, ক্যানসার যদি একদম শুরুতেই চিহ্নিত হয়, আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার সাহায্যে রোগীকে দীর্ঘদিন ভাল রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু সে জন্য প্রথম ধাপেই চিকিৎসা শুরু হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকেদের কথায়, অনেক সময়ে প্রস্টেট ক্যানসারে উপসর্গ থাকে না। অনেকের আবার ক্যানসার নিয়ে বাড়তি ভয়-ভীতিও থাকে। কিছু ভুল ধারণা আর সচেতনতার অভাবেই রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।

বিশাখাপত্তনম নিবাসী শল্য চিকিৎসক (ইউরোলজিস্ট) অমিত সাপলে জানাচ্ছেন, প্রস্টেট ক্যানসারের কোন ধারণাগুলি ভ্রান্ত।

বয়সকালের অসুখ: বয়স বাড়লে পুরুষদের প্রস্টেটের সমস্যা হয়। প্রস্টেট বেড়ে যায়, প্রস্রাবের প্রবাহেও সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, প্রস্টেট ক্যানসার বয়স্কদেরই হয়। চিকিৎসক অমিত সাপলে বলছেন, ক্যানসার যে কোনও বয়সে হানা দিতে পারে। বিশেষত পরিবারে যদি কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, সতর্ক হওয়া জরুরি। শুধু প্রস্টেট নয়, যে কোনও রকম ক্যানসার যদি পরিবারে কারও হয়ে থাকে, তা হলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

পিএসএ: প্রস্টেট ক্যানসার চিহ্নিত করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পিএসএ পরীক্ষাটি করতে বলা হয়। পিএসএ বেশি হলে ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকে। তবে পিএসএ বেশি হলেই যে ক্যানসার তা ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক। প্রস্টেটে সংক্রমণ হলে বা অন্য কোনও কারণেও কখনও কখনও পিএসএ বেড়ে যেতে পারে। পিএসএ-রিপোর্ট দিয়ে নিশ্চিত ভাবে ক্যানসার নির্ণয় করা যায় না। পিএসএ বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরবর্তী পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

উপসর্গ: উপসর্গ না থাকলে কেউ সচেতন হন না, চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, প্রস্টেটের সাধারণ সমস্যা আর ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময়ে একই রকম হয়। ফলে কোনটি সমস্যা সাধারণ, কোনটি নয়, বোঝা যায় না। আবার কারও তেমন উপসর্গও থাকে না। সেই কারণে, প্রস্রাব করতে সমস্যা হলে, প্রস্রাবের মাত্রা কমলে বা রক্ত পড়লে, প্রস্টেট বেড়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শমতো বছরে একবার নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করানো দরকার।

মৃত্যুর আশঙ্কা: ক্যানসার মানেই জীবন শেষ, এমন ভয়েও নিজেকে গুটিয়ে রাখেন অনেকে। চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। চিকিৎসক অমিত সাপলে মনে করাচ্ছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক বদল এসেছে। প্রস্টেট ক্যানসার কোন পর্যায়ে ধরা পড়ছে, রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন তার উপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে, চিকিৎসার সাহায্যে রোগী দীর্ঘদিন পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারেন।

ক্যানসার ফিরে এলে: একবার যাঁরা চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, আবার ক্যানসার ফিরে এসেছে তাঁরা অনেক সময়েই আশা ছেড়ে দেন। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, ক্যানসারের চিকিৎসার একাধিক পন্থা রয়েছে। একটি না হলে, অন্যটি দিয়ে কাজ হবে। হাল ছাড়া কোনও কাজের কথা নয়।

সময়ে সতর্ক হলে, বছরে একবার করে পিএসএ পরীক্ষা করালে, অনেক সময়ে রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করা যায়। তাই ভয় নয়, ক্যানসার নিয়ে সচেতন হতে বলছেন চিকিৎসকরা।

প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। প্রস্টেটের সাধারণ লক্ষণও অবহেলা করা উচিত নয়। সুস্থ থাকতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

Prostate Cancer

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy