বদহজম হলে ওষুধ খেতেই অভ্যস্ত সকলে। তা যদি বার বার হয়, তখন গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা ভেবে নিশ্চিন্ত হন অনেকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বারে বারে বদহজম, পেটে যন্ত্রণা এবং যদি ঘন ঘন জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়, তা হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময়ে অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার বাসা বাঁধলে, এমন কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে।
অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ হল ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমা’। এই ক্যানসার ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরাও পড়ে না। অজান্তেই শরীরে বাড়তে থাকে। এমন কিছু লক্ষণ দেখা দিতে থাকে, যা সাধারণ বলেই ভ্রম হয়। যেমন, বার বার জন্ডিসে আক্রান্ত হলে কিন্তু সেটি মোটেই ভাল লক্ষণ নয়। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই জন্ডিসে আক্রান্ত হন। তাই সাবধান থাকতে হবে। আবার, খাওয়াদাওয়ায় একটু অনিয়ম হলেই বদহজমের সমস্যা হওয়া খুবই সাধারণ। তবে এই সমস্যা সাময়িক। যদি দেখেন, ওষুধ খাওয়ার পরেও মাঝেমাঝেই এই সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তা হলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। বদহজমও কিন্তু অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ।
আরও পড়ুন:
ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস হলে পেটে তীব্র যন্ত্রণা হয়। পেটের উপর থেকে শুরু হওয়া এই যন্ত্রণা ক্রমশ গোটা পেট-সহ পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বুকেও ব্যথা হতে পারে। কিছু খেলেই বমি হয়ে যায়। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
যাঁদের ওজন বেশি, ডায়াবিটিসের সমস্যা আছে বা কোলনে সমস্যা আছে, তাঁদের বেশি সতর্ক হতে হবে। পাকস্থলী বা পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হলে, পিত্তথলিতে বার বার পাথর জমার লক্ষণ দেখা দিলেও সাবধান হতে হবে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই গোড়ায় ধরা না পড়লে, তা রোগীর পক্ষেই বিপজ্জনক।