Advertisement
E-Paper

শিশুদের কাশির সিরাপে কী কী থাকা বিপজ্জনক? স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা থেকে জানুন বাবা-মায়েরা

বাজারে প্রচুর কাশির ওষুধ পাওয়া যায়। তার সবগুলিই যে ক্ষতিকর, তা নয়। তবে তার মধ্যে কিছু রয়েছে ‘ফিক্সড ডোজ় কম্বিনেশন’ (এফডিসি) ওষুধ, যেগুলি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। শিশুর বয়স ৪ বছরের কম হলে, সে সব ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ১৩:১০
Dangerous Ingredients in Children’s Cold Medicines Every Parent Should Know

শিশুদের জন্য কোন কোন কাশির সিরাপ নিষিদ্ধ হল? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

চার বছরের নীচে শিশুদের কাশির সিরাপ খাওয়ানো উচিত নয়, তা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সম্প্রতি নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে, সিরাপে কী কী থাকলে তা শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ। সর্দি-কাশি হলেই দোকান থেকে সিরাপ কিনে খাওয়ানো ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে দোকানে ‘ফিক্সড ডোজ় কম্বিনেশন’ (এফডিসি) গোত্রের কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, যেগুলিতে দুই বা তিন রকম ওষুধের মিশ্রণ থাকে। এফডিসি কাশির সিরাপগুলিতে এমন কিছু রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে যা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সেই ধরনের ওষুধ কিনতেই নিষেধ করা হচ্ছে।

কাশির সিরাপে কী কী থাকা ক্ষতিকর তা নিয়ে পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওষুধ নিয়ে পরামর্শ প্রদানকারী কমিটি ‘সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি’ (এসইসি) এবং পরামর্শদাতা পরিষদ ‘ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়রি বোর্ড’ (ডিটিএবি)। কোন কোন কাশির সিরাপকে ক্ষতিকর বলা হয়েছে?

ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট ও ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড কম্বিনেশনের কিছু কাশির সিরাপ রয়েছে যেগুলি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। কোন ওষুধে কী উপাদান মেশানো আছে, তা সকলের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই সিরাপের বোতলের গায়ে উপাদানের তালিকা উল্লেখ করে দেওয়ার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন ক্ষতিকর?

ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।

ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে মিশ্র ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই মিশ্র ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপগুলিতে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও আছে।

বাবা-মায়েদের যা জানা জরুরি

কাশির সিরাপ কেনার আগে সেটিতে কোন কোন উপাদান রয়েছে, তা অবশ্যই লেবেল থেকে পড়ে নিতে হবে। খেয়াল করবেন, সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি), ইথিলিন গ্লাইকল (ইজি) বা কোডেইনের মতো উপাদানের নাম লেখা আছে কি না। এই ধরনের রাসায়নিক বিষাক্ত, শিল্প-কারখানায় ব্যবহার করা হয়। রক্তে মিশলে লিভার-কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

অ্যালকোহল বা কৃত্রিম চিনি মেশানো থাকলেও তা ক্ষতিকর। এই সব উপাদান আছে কি না, তা কেনার আগে দেখে নিতে হবে।

কাশির সিরাপের গায়ে ‘হু-জিএমপি সার্টিফায়েড’ লেখা আছে কি না দেখে নেবেন। অথবা আইএসও চিহ্ন থাকবে।

প্রতিটি সিরাপের ডিএল বা এমএফজি লাইসেন্স নম্বর থাকবে, যা রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটি নির্ধারণ করবে। এই নম্বর দেখলে বুঝতে হবে, ওষুধটির গুণমান যাচাই করা হয়েছে।

কাশির সিরাপ ভাল মানের কি না, তা বুঝতে আরও একটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। সিরাপটি কী ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তার তথ্য অবশ্যই লেখা থাকবে। যদি উল্লেখ না থাকে, তা হলে সেই ওষুধ না কেনাই ভাল।

Cough Syrup

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy