কারও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে, কারও আবার সর্দি-কাশি, তীব্র গলা ব্যথা। তার মধ্যে পেটের গোলমালও ভোগাচ্ছে। কেউ আবার কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারছেন, বুকে সংক্রমণ ঘটেছে। লিভারের রোগও ধরা পড়ছে। বড়দের মতো ভুগছে ছোটরাও। দিনকয়েকের জ্বর না কমলে ভাইরাল ভেবে ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছেন বাবা-মায়েরা। পরে হয়তো জানা যাচ্ছে, রোগটা ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া। শিশুদের ডেঙ্গি হলে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সবসময় উপসর্গ স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে না। লক্ষণ সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই হয়। তাই অভিভাবকদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
সরকারি থেকে বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে ডেঙ্গি-আক্রান্ত রোগীর। তার মধ্যে ছোটরাও রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি ছোটদের ক্ষেত্রে তীব্র রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে আইসিএমআরের প্রাক্তন বিজ্ঞানী দীপিকা শূরের বক্তব্য, শিশুদের রক্তনালির প্রাচীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম হয়। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে সাইটোকাইন নামে এক রাসায়নিকের ক্ষরণ বাড়ে। এই সাইটোকাইন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। তবে এর পরিমাণ বাড়লে তখন প্রদাহ শুরু হয়। এটি রক্তনালির প্রাচীরকে ভেদ করতে থাকে। ফলে রক্ত থেকে প্লাজমা (তরল অংশ) দ্রুত বার হয়ে বুক ও পেটে জমতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্ষেত্রে এই ‘প্লাজমা লিকেজ়’ দ্রুত ঘটে। ফলে শরীরে জলের পরিমাণের ভারসাম্য বিগড়ে যায়। এতে রক্তচাপ খুব তাড়াতাড়ি কমতে থাকে। একে বলে ‘ডেঙ্গি শক সিনড্রোম’। এটি যদি হতে শুরু করে, তা হলে বিপদ বাড়ে।
আরও পড়ুন:
বাবা-মায়েদের খেয়াল করতে হবে জ্বরের সঙ্গে সারা গায়ে র্যাশ বেরোচ্ছে কি না, শিশুরা শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তির কথা বলছে কি না বা দাঁত ও মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না। এগুলি সাধারণ জ্বরের লক্ষণ নয়। সংক্রামক রোগবিষয়ক চিকিৎসকদের দাবি, ডেঙ্গি ভাইরাসের চরিত্র যে ভাবে বদলাচ্ছে, তাতে নতুন কিছু উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। যেমন, পেটের সংক্রমণ, পেটে ব্যথা, বমি, মাথাঘোরা, চোখের সংক্রমণ যা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকে। ডেঙ্গি ভাইরাসের কারণে পেটে জল জমছে, ফলে ঘন ঘন বমি, ডায়ারিয়া, ডিহাইড্রেশনের মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ৩-৪ দিনের মধ্যে ছোটদের জ্বর না কমলে এবং আনুষঙ্গিক উপসর্গগুলি দেখা দিতে থাকলে, দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সবচেয়ে আগে ডেঙ্গি এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে হবে, তার পর সিবিসি বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করিয়ে নিতে হবে। জ্বর যদি ৫ বা ৬ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্ট করানোও জরুরি।