জনপ্রিয় গায়ক, অভিনেতা দিলজীত দোসাঞ্ঝ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তাঁর নিজস্ব ভাল থাকার পন্থা। দিনভর যতই ব্যস্ততা থাক, দিনের শেষে ক্লান্ত হলেও একটি কাজ করতে ভোলেন না তিনি। তা হল নাভিতে তেলমালিশ।
দিলজীত জানিয়েছেন, ব্যাগে সবসময় সর্ষের তেল এবং নিমের তেল সঙ্গে রাখেন তিনি। দুই তেল মিশিয়ে রাতে নাভিতে মালিশ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি প্রতি রাতে নাভিতে তেল মাখি। এটা অনেক ভাবে সাহায্য করে। কারণ, সবকিছুই নাড়ির সঙ্গে জড়িত। তাই তার দেখভালও জরুরি।’’
নাভিতে তেল মালিশে দিলজীত যতটা বিশ্বাস করেন, ততটাই ভরসা করেন মা, ঠাকুরমাদের অনেকেই। গুণাগুণ জানার চেয়ে, দীর্ঘ দিন ধরে এই অভ্যাস ভাল বলেই জেনে এসেছেন তাঁরা। বহু ভারতীয় পরিবারের প্রথাগত ধারণা, নাভিতে তেল মালিশে হজমশক্তি বাড়ে, কেউ বলেন, নাভিতে তেল মালিশ করলে ভাল থাকে ত্বক এবং চুল। কারও বিশ্বাস, এতে মন শান্ত হয়, গাঁটের ব্যথাও কমে। কিন্তু সত্যিই কি সর্ষের তেল বা নিমতেল নাভিতে লাগানো ভাল?
সমাজমাধ্যমে নাভিতে তেল মাখা নিয়ে নানা গুণের কথা প্রকাশ পেলেও, চিকিৎসকেরা বলছেন, এর সপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। ঠাণে নিবাসী ত্বকের রোগের চিকিৎসক শ্বেতা নাখওয়া জানাচ্ছেন, নাভিতে তেল মালিশের কিছু উপকারিতার কথা বলা হলেও তার বেশির ভাগেরই কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
নিমতেলে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ছোটখাটো সংক্রমণ রোধে কাজ করে নিম তেল। অন্য দিকে, সর্ষের তেলে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। চিকিৎসকের কথায়, নাভিতে বা নাভির চারপাশে হালকা গরম তেল মালিশ করলে অবশ্যই আরাম লাগে। তা ছাড়া, দুই তেলই ত্বকের জন্য ভাল। রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, ফলে ত্বক ভাল থাকে। তা ছাড়া, সাধারণ ভাবে দেখলে, এতে উপকারিতা মিলুক না মিলুক, তা ক্ষতিকর নয়।
যদিও শ্বেতা জানাচ্ছেন, নিমতেলে কারও কারও অ্যালার্জিও হতে পারে। সর্ষের তেল ত্বকে সহ্য না হলে সমস্যা হতে পারে। তেল মাখার পরে চুলকালে বা র্যাশ বেরোলে তা আর মাখা যাবে না।
তেল মালিশে হজমক্ষমতা ভাল হয়?
প্রথাগত ধারণা, নাভিতে তেল মালিশে যেহেতু রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, তাই হজমশক্তিও বাড়ে। তবে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, তেল মালিশে নয়, দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়া, শারীরচর্চার উপরে হজমক্ষমতা নির্ভর করে। পেট ভাল রাখতে হলে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। ফল, টাটকা শাকসব্জি খাওয়া জরুরি। এতে ফাইবার এবং ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়।