কিডনির অসুখ ধরা পড়লে খাবার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় অনেক কিছুই। নুন-চিনি খেতে হয় পরিমিত পরিমাণে। সোডিয়াম-পটাশিয়াম, ফসফরাস যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া চলে না। বেশি প্রোটিন খেলেও শুরু হয় সমস্যা। ফলে দুগ্ধজাত খাবার, বেশ কিছু সব্জি বা ফল বাদ পড়ে যায়। বাদের তালিকা বাঁচিয়ে কিডনির রোগী খাবেন কী? নিয়ম করে একই খাবার দিলে, একঘেয়ে লাগে। কিডনি ভাল থাকবে অথচ সুস্বাদু, এমন কোন প্রাতরাশ বানাতে পারেন?
ওট্স উপমা
ওট্স উপমা। ছবি:সংগৃহীত।
ফুলকপি, ব্রকোলি, ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন কে, সি, বি৬, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা দেহের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে কিডনিকে শক্তিশালী করে। ওট্স স্বাস্থ্যকর খাবার। ফলে প্রাতরাশে বানিয়ে দিন ওট্স এবং সব্জি দিয়ে উপমা।
গাজর, ব্রকোলি বা ফুলকপি ছোট টুকরো করে কেটে ভাপিয়ে নিন। শুকনো কড়াইয়ে ওট্স নাড়াচাড়া করে তুলে রাখুন। কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে কারিপাতা, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। সব্জি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ওট্স দিয়ে অল্প জল দিন। স্বাদমতো নুন যোগ করুন। ২-৩ মিনিট ওট্স সেদ্ধ হতে দিন। তার পরে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। জল শুকিয়ে এলে নামিয়ে নিন।
পুরভরা অমলেট
পুর ভরা অমলেট। ছবি:সংগৃহীত।
কিডনির রোগীদের প্রোটিন বেশি খাওয়া অনুচিত, তবে তা পুরোপুরি বাদ দিলে সমস্যা হতে পারে। পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখতে বলেন চিকিৎসকেরা। তাই প্রাতরাশে থাকতে পারে পুর ভরা অমলেট। ২টি ডিম এবং ১ টেবিল চামচ ওট্সগুঁড়ো গুলে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে ফেটানো ডিম গোল করে ছড়িয়ে দিন। সেটি কাঁচা থাকা অবস্থায় উপর থেকে দিতে হবে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ক্যাপসিকাম, টম্যাটো কুচি। স্বাদের জন্য দিন গোলমরিচ। নুন কম খাওয়াই ভাল। সব্জি একটু সেদ্ধ হলে, ডিম আড়াআড়ি ভাঁজ করে নিন।
ফ্রায়েড রাইস
ফ্রায়েড রাইস। ছবি:সংগৃহীত।
ভারী কিছু খেতে চাইলে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর ফ্রায়েড রাইসও রাখা যেতে পারে প্রাতরাশে। খেয়াল রাখতে হবে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস সমৃদ্ধ সব্জি যেন তাতে বেশি না থাকে। বাঁধাকপি, ব্রকোলি, ক্যাপসিকাম কুচিয়ে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে রসুনকুচি, পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। সব্জি সরু করে কেটে দিন। অল্প নুন দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। ফেটিয়ে দিন একটি ডিম। যোগ করুন গোলমরিচ। সব শেষে সেদ্ধ ভাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। চাইলে মুরগির বুকের অংশের মাংসের টুকরোও অল্প মাত্রায় যোগ করা যায়। সেক্ষেত্রে তেল দেওয়ার পরেই মাংসের টুকরো ভেজে নিতে হবে।
এর বাইরে, পেট ভরানোর জন্য জাম, বেরি জাতীয় ফল, আপেলও দেওয়া যেতে পারে কিডনি রোগীদের।