রাতে বা দুপুরে খাওয়ার পর বা সন্ধ্যায় চায়ের সঙ্গে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে? কিন্তু তখন যদি চকোলেট, আইসক্রিম খেয়ে ফেলেন, তা হলে ডায়েটের দফারফা হয়ে যাবে। তাই বাড়িতে এমন কিছু বানিয়ে রেখে দিতে পারেন, যা স্বাদকোরকগুলির খেয়াল রাখবে, আবার মেদও জমতে দেবে না। আর তাই আপনার সহায় হতে পারে লেমন কুকিজ়। মাত্র ৪টি উপকরণ দিয়ে এটি বানিয়ে নেওয়া যায়। ময়দা, চিনি, মাখন, ডিম বা তেলের প্রয়োজন নেই।
ডায়েট চলাকালীন মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে বাড়িতে এমন কুকিজ় বানিয়ে রেখে দিতে পারেন। বানানোর পন্থাও অতি সহজ। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার, এই কুকিজ়ে চিনি না থাকলেও কলা ও খেজুরের প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। তাই ডায়াবিটিস থাকলে বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে পরিমাণ বুঝে খাওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। গ্লুটেন এড়িয়ে চলতে হলে ওট্সের প্যাকেটে ‘গ্লুটেনমুক্ত’ বলে উল্লেখ রয়েছে কি না, দেখে নিন।
১০-১২টি কুকির জন্য কী কী উপকরণ প্রয়োজন?
২টি পাকা কলা
দেড় কাপ গুঁড়ো করা ওট্স
৮টি নরম খেজুর
একটি পাতিলেবুর রস
পাতিলেবুর খোসার উপরের অংশ
কী ভাবে বানাবেন?
খেজুর শক্ত হলে প্রথমে মিনিট দশেক গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। তার পরে জল ঝরিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। চাইলে সামান্য জল দিয়ে খেজুর ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্টও বানিয়ে নিতে পারেন। এতে কুকিজ়ের প্রতিটি কামড়ে মিষ্টি সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
অন্য দিকে, লেবু ভাল করে ধুয়ে খোসার উপরের হলুদ অংশটি মিহি করে কুরিয়ে নিন। সাদা অংশটি যেন না উঠে আসে, তাতে তেতো স্বাদ থাকতে পারে। লেবু থেকে প্রায় এক টেবিলচামচ রস বার করে রাখুন।
এ বার মণ্ড তৈরির জন্য একটি বড় পাত্রে পাকা কলা দু’টি ভাল করে চটকে নিন। কলা মসৃণ হয়ে এলে তার সঙ্গে খেজুর, লেবুর খোসার কুচি এবং লেবুর রস মিশিয়ে দিন। এ বার ওট্স দিয়ে সব উপকরণ ভাল করে নাড়ুন। মিশ্রণটি আঠালো হবে এবং হাতে নিয়ে চাপ দিলে চ্যাপ্টা আকারও নেবে।
মিশ্রণ বেশি জলীয় হয়ে গেলে এক চামচ করে ওট্স যোগ করতে পারেন। আবার বেশি শুকনো বা ঝুরঝুরে মনে হলে সামান্য চটকানো কলা বা কয়েক ফোঁটা জল মেশান। মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে মিনিট দশেক রেখে দিন। এতে ওট্স কিছুটা জলীয় অংশ শুষে নেবে এবং কুকিজ়ের আকার দেওয়া সহজ হবে।
প্রথমে অভেন ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করে নিন। একটি বেকিং ট্রেতে পার্চমেন্ট পেপার বিছিয়ে নিন। এ বার মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প অংশ নিয়ে চ্যাপ্টা কুকির আকার দিন। ট্রেতে রাখার আগেই পছন্দমতো আকার দিয়ে নিন।
১৫-১৮ মিনিট বেক করুন। কুকিজ়ের কিনারাগুলি সামান্য সোনালি হয়ে এলে এবং সেগুলি জমাট বাঁধলে অভেন থেকে বার করে নিন। মাখন বা ময়দা না থাকায় সাধারণ কুকিজ়ের মতো গাঢ় রং হবে না। তাই শুধু রং দেখে বেক হয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করবেন না। গরম অবস্থায় কুকিজ় কিছুটা নরম থাকবে। ঠান্ডা হলে আরও জমাট বাঁধবে।
অভেন থেকে বার করে ট্রে-র উপরেই মিনিট দশেক কুকিজ় ঠান্ডা হতে দিন। গরম অবস্থায় তুলতে গেলে ভেঙে যেতে পারে। ঠান্ডা হলে চা বা কফির সঙ্গে পরিবেশন করুন।