Advertisement
E-Paper

বিস্বাদ খাবার, তাও আবার কম পরিমাণে! জন্ডিসের সময়ে খাওয়ার ভুলে লিভারের ক্ষতিই বাড়ছে না তো?

জন্ডিসের নেপথ্যে নানাবিধ কারণ থাকতে পারে। তাই সবার চিকিৎসা বা খাদ্যাভ্যাস এক রকম হবে না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীর সুস্থ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭
জন্ডিস হলে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে পুরনো প্রথা মেনে চলা উচিত নয়।

জন্ডিস হলে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে পুরনো প্রথা মেনে চলা উচিত নয়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জন্ডিস ধরা পড়লে অনেকেই বাড়িতে ডিম, মাছ, মাংস সব বন্ধ করে দেন। মনে করেন, প্রোটিন খেলেই লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তার উপর অনেকেই ক্যালোরি কমিয়ে দেন। বিস্বাদ খাবার, তাও আবার অল্প পরিমাণে। কিন্তু কেরলের কোচি নিবাসী হেপাটোলজিস্ট সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপ্‌সের মতে, এটি বহু দিনের একটি ভুল ধারণা। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিউপাদান লিভারের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করতে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

জন্ডিসের সময়ে কী কী খাবেন?

জন্ডিসের সময়ে কী কী খাবেন? ছবি: সংগৃহীত

আসলে জন্ডিস কোনও রোগ নয়। এটি উপসর্গ মাত্র। এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর পিছনে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, লিভারের প্রদাহ, পিত্তনালির সমস্যা বা অন্য নানা কারণ থাকতে পারে। তাই সবার চিকিৎসা বা খাদ্যাভ্যাস এক রকম হবে না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীর সুস্থ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। চিকিৎসক সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘এই ধারণাগুলিকে বিশ্বাস করা এবং‌ উদ্‌যাপন করা বন্ধ করুন। আমি আমার রোগীদের সব ধরনের খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিই বলেই তাঁরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।’’

চিকিৎসকদের মতে, জন্ডিস সারানোর জন্য প্রোটিন বাদ দেওয়ার দরকার নেই। প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত এবং নতুন কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সেরে ওঠার জন্যও প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিউপাদানের প্রয়োজন। তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত ডাল, দুধ বা দই, ডিম, মাছ, মুরগির মাংসের মতো সহজপাচ্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। অবশ্য রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং রোগের কারণ অনুযায়ী এই তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। সব ধরনের লিভারের রোগে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যদি লিভারে গুরুতর রোগ বা হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির মতো জটিলতা দেখা দেয়, তখন কিছু ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র চিকিৎসকই নেবেন। নিজের ইচ্ছেমতো প্রোটিন বন্ধ করে দেওয়া কখনও উচিত নয়। চিকিৎসক যা যা খেতে বলবেন, সেগুলিই রাখতে হবে ডায়েটে। নিজে থেকে খাবারদাবার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় এই সময়ে।

জন্ডিসে কী কী একেবারে বারণ?

জন্ডিসের সময়ে শরীরে জলের ঘাটতি যেন না হয়। এই সময়ে পর্যাপ্ত জল পান, টাটকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেলমশলাযুক্ত বা মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রক্রিয়াজাত এবং তেলমশলাযুক্ত খাবার সরাসরি জন্ডিস বাড়িয়ে দেয়, তা নয়। কিন্তু এগুলি হজম করা কঠিন এবং এগুলির পুষ্টিগুণও কম। তা ছাড়া রান্নায় কোন জল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জন্ডিস যেহেতু দূষিত জল থেকেই মূলত হয়, তাই এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রামও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য জরুরি। প্রোটিনকে অকারণে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত চিকিৎসাই লিভারকে দ্রুত সুস্থ হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

Jaundice Liver Care

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy