স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে থাকে ফল। আর সেই ফল খাওয়া নিয়েই যত আতঙ্ক ডায়াবিটিসের রোগীদের মধ্যে। ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টিও কখনও কখনও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে তাঁদের জন্য। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সঠিক ফলের সঙ্গে সঠিক খাবারটি বেছে নিলে এই ভয় অনেকটাই দূর করা যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ডায়েট থেকে ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিছু কিছু ফল মধুমেহ রোগের শত্রু নয়। তবে জানতে হবে ফল খাওয়ার সঠিক কায়দা!
কলা: ডায়াবিটিস থাকলে কলা খাওয়া ছেড়ে দেন অনেকেই। তবে কলার উপর এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই কিন্তু হতে পারে মুশকিল আসান। দারচিনি ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে আর রক্তের শর্করার মাত্রা চটজলদি একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিতে বাধা দেয়। এই একটা মশলা যোগ করেই ডায়াবেটিক রোগীরাও পরিমিত মাত্রায় কলা খেতে পারেন।
আম: গ্রীষ্মের সময় আম দেখলে নিজেকে সামলানো মুশকিল। তবে খুব বেশি আম খাওয়া কিন্তু ডায়াবেটিকদের জন্য ভাল নয়। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করলে আমের উপর এক টেবিলচামচ কুমড়োর বীজ ছড়িয়ে খেতে পারেন। এই বীজ প্রোটিন, ফাইবার আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভাল উৎস। এইগুলি আমের প্রাকৃতিক শর্করার ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রাকে বাড়তে বাধা দেয়।
তরমুজ: এই ফলের সঙ্গে এক টেবিলচামচ সূর্যমুখীর বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন ডায়াবেটিকেরা। এই বীজে থাকা প্রোটিন আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, রক্তের শর্করার মাত্রাকে একলাফে অনেকটা বেড়ে যেতে দেয় না। এর পাশাপাশি তরমুজ খেলে খানিকক্ষণ পর আপনার আবার খিদে পেয়ে যাবে, তবে সঙ্গে এই বীজ মিশিয়ে খেলে অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকে।
সবেদা: এই ফলও বেশ মিষ্টি হয়। তবে এর সঙ্গে আখরোটের কুচি মিশিয়ে খেতে পারেন সুগারের রোগীরা। আখরোটে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা রক্তে চিনির শোষণ কমিয়ে দেয়। হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও তা ভাল।
খেজুর: মাঝেমধ্যে খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে ডায়াবেটিকদের জন্য খেজুর ভাল বিকল্প। তবে শুধু খেজুর না খেয়ে কয়েকটা কাঠবাদামের সঙ্গে খেজুর খান। এতে রক্তে সুগার স্পাইক কম হবে।