তারকাদের মতো মসৃণ ত্বক, জেল্লাদার চুল পেতে পার্লারে ছোটেন কমবেশি সকলেই। নানারকম প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহারও হয়। তবে বাহ্যিক রূপচর্চা কখনওই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যদি শরীর ভিতর থেকে সুস্থ থাকে, রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে হয়, তা হলেই কোষে কোষে অক্সিজেনের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। পুষ্টিকর উপাদানও পৌঁছোবে কোষে কোষে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মেরামত হবে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই জেল্লা বাড়বে ত্বক ও চুলের। গবেষণা বলছে, বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখার যে সব অ্যান্টি-এজিং থেরাপি নিয়ে এত মাতামাতি চলছে, সেগুলির চেয়েও শতগুণে ভাল নিয়মিত যোগাসন অভ্যাস করা। এতে ত্বক টানটান হবে, বলিরেখা দূর হবে এবং গালের অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।
যোগব্যায়াম করার সময়ে গভীর ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে হয়, পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ ঘটে, ফলে রক্তে জমে থাকা টক্সিন বা ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থগুলি দূর হয়ে যায়। রক্ত যত পরিষ্কার থাকবে, ততই ব্রণ, র্যাশ বা ত্বকের নানা সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও কমবে। ত্বক মসৃণ থাকবে। তবে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ কয়েকটি যোগাসনই অভ্যাস করতে হবে।
সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলেরখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। এর পর একটি পা ধীরে ধীরে নামিয়ে আনুন। অন্য পা উপরেই তোলা থাকবে। এমন ভঙ্গিতে পিঠ ও কোমর সোজা রাখতে হবে। শরীরের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড গুনুন। তার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। আবার অন্য পায়ে একই ভাবে আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
আরও পড়ুন:
মণ্ডুকাসন
প্রথমে বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসুন। অর্থাৎ, হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের উপর বসতে হবে। খানিকটা হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে মাটিতে উপুড় হওয়ার চেষ্টা করুন। সামনের দিকে হাত দুটো ছড়িয়ে দিন। দু’টি পা ছড়িয়ে দিন দু’পাশে। এমন ভাবে ছড়াতে হবে, যেন দুই ঊরু ও হাঁটু মাটি স্পর্শ করে থাকে। দেখতে অনেকটা ব্যাঙের মতো লাগবে। থুতনি, বুক, পেটও মাটির সঙ্গে ঠেকে থাকবে। এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে পারলে ভাল হয়।
মৎস্যাসন
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত থাকুক পাশে। এ বার হাতে ভর দিয়ে কাঁধ, পিঠ মাটি থেকে তুলে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে। এই অবস্থানে মাথার পিছন দিকে ভার অনুভব করবেন। এই আসন অভ্যাসে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন খুব দ্রুত হয়। ৩–৪ বার আসনটি রোজ অভ্যাস করতে হবে।