Advertisement
E-Paper

নাকে স্প্রে নিলেই অবসাদ কাটবে? মনের অসুখের জন্যও এল ন্যাজ়াল স্প্রে, কী দিয়ে তৈরি জানেন?

সর্দি-কাশি কমানোর ন্যাজ়াল স্প্রে হয়। কিন্তু অবসাদ কাটাতেও কি নাকে স্প্রে নেওয়া যায়? তেমনই ওষুধ আসতে চলেছে বাজারে। গবেষকদের দাবি, একাকিত্বের অনুভূতি, বিষাদ, হতাশা, সবই নাকি কাটবে নাকের ওই স্প্রে নিলে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৯
Toad-Venom Psychedelic Nasal Spray, A New Era in Treating Depression

হতাশা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা কাটানোরও স্প্রে এসে গেল। ফাইল চিত্র।

ঘুম থেকে উঠতে ভাল লাগছে না, ভালমন্দ খেতে ভাল লাগছে না, ঘুরতে যেতে ভাল লাগছে না, এমনকি কাজ করতেও ইচ্ছে করছে না। হতাশা, বিষণ্ণতা এতটাই প্রবল। ইতিবাচক ভাবনাগুলিকে এলোমেলো করে দিচ্ছে নেতিবাচক ভাবনা। তাতেই মনখারাপের মেঘ ঘনাচ্ছে। কোনও কাজেই মন বসে না, হাসি-আনন্দ উধাও হচ্ছে দিনে দিনে। অফিস যেতে ভাল লাগে না, কাজ করতে ইচ্ছা হয় না, এমনকি লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেও মন চায় না। বিষণ্ণতা ও একাকিত্ব গ্রাস করছে নিঃশব্দে। এক দিন তারাই ডালপালা মেলে অবসাদের কারণ হয়ে উঠবে। মনের এমন সমস্যা কাটাতে ওষুধের উপরেই নির্ভর করতে হয় অনেককে। সে সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক। তার বদলে আসছে নাকের স্প্রে। নাক দিয়ে ওষুধ টানলেই মনের চাপ কমবে বলে দাবি করা হয়েছে।

ন্যাজ়াল স্প্রেটির নাম মেবুফোটেনিন বেঞ্জোয়েট। আমেরিকার গবেষকেরা সেটি তৈরি করেছেন। এটি যে ভাবে তৈরি হয়েছে, সে প্রক্রিয়াও অদ্ভুত। গবেষকেরা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকার ‘সোনোরা’ ব্যাঙের চামড়ায় এক ধরনের বিষ তৈরি হয়। সেই বিষ দিয়েই তৈরি হয়েছে ওই স্প্রে। তবে ভয়ের কিছু নেই। বিষ সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি। তাকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করে তবেই ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ব্যাঙের চামড়া থেকে নেওয়া বিষে এমন রাসায়নিক আছে যা সেরোটোনিন হরমোন ক্ষরণে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। এই হরমোনই চিন্তাভাবনা, আবেগ, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। সেরোটোনিনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

১৮ থেকে ৮০ বছর বয়সি শতাধিক মানুষের উপর স্প্রে-টি প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। হতাশা, উৎকণ্ঠা বা অবসাদ, অ্যালঝাইমার্সের মতো জটিল মানসিক সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের এই ন্যাজ়াল স্প্রে দিয়ে দেখা গিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মন স্থির হয়েছে। হতাশা দূর হয়েছে। ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, নাকে স্প্রে নেওয়ার পরে অন্তত ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছেন। গবেষকদের আশা, প্যানিক ডিজ়অর্ডারে ভোগেন, এমন রোগীদেরও তাৎক্ষণিক উৎকণ্ঠা, পেশির খিঁচুনি কমাতে ওষুধটি কাজে আসতে পারে।

অবসাদ কমানোর নাকের স্প্রে সকলের ব্যবহারের উপযোগী করে বাজারে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চলছে। তবে এরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘকালীন অবসাদে বা স্নায়বিক রোগে ভুগছেন যাঁরা অথবা আত্মহত্যার প্রবণতা আছে যাঁদের মধ্যে, তাঁদের ক্ষেত্রে ওষুধটি কী কাজ করবে বা আদৌ কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। তা ছাড়া মনখারাপ হলেই নাকে স্প্রে নিলে তা কতটা নিরাপদ হবে সকলের জন্য, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন আছে।

Depression mental health cure Nasal Spray

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy