ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন। কিন্তু ভুঁড়িটি কমছে না মোটেও। অল্প খেয়েও ফুলে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ। পেটের চর্বি যদি চিন্তার কারণ হয়, তা হলে সে মেদ এল কোথা থেকে, তা জানা খুবই জরুরি। শুধু চর্বচোষ্য খেয়ে যে এমন ভুঁড়ি হবে, তা নয়। এর কারণ অন্য কিছুও হতে পারে। চর্বির স্তর যেন ঠিক পেটের মাঝখানে গিয়েই জমা হচ্ছে। ভুঁড়ির আকারও বাড়ছে। সারা শরীরে যতটা না মেদ জমেছে, তার চেয়ে ঢের বেশি জমছে পেটে। এমন ভুঁড়িকে বলে ‘কর্টিসল বেলি’, যার কারণ হল হরমোনের তারতম্য।
কর্টিসল হল স্ট্রেস হরমোন। মানসিক চাপ যত বাড়বে, দুশ্চিন্তার পারদ যত চড়বে, ততই কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়বে। আর যত বেশি কর্টিসলের ক্ষরণ হবে, ততই বিপাকহারে বদল আসবে। অতিরিক্ত কর্টিসল ভাজাভুজি বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। তখন বিঞ্জ ইটিংয়ের প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে মেদ বাড়তে থাকে। তা ছাড়া কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে, তা রক্তে গ্লুকোজ়ের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবিটিস হওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কর্টিসল বেলি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কমবয়সিদের মধ্যেই তা বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন ভুঁড়ি কমাতে শুধু ডায়েট করলে হবে না, বরং সুষম খাবার খেতে হবে এবং নিয়ম করে কিছু নির্দিষ্ট যোগাসন অভ্যাস করতে হবে।
কোন কোন যোগাসনে কমবে ‘কর্টিসল বেলি’?
পূর্বোত্তনাসন
প্রথমে সুখাসনে বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। দুই পা সামনের দিকে প্রসারিত করতে হবে। পিঠ টানটান থাকবে। দুই হাত শরীরের দু’পাশে রাখুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে হাতে ভর দিয়ে পিঠ ও কোমর উপরে তুলুন। শরীর এক সরলরেখায় থাকবে। পা টানটান থাকবে। মাথা সামান্য পিছন দিকে হেলিয়ে দিন। এই ভঙ্গিমায় শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখুন ২০-৩০ সেকেন্ড। তার পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
বিপরীত নমস্কার দণ্ডাসন
প্রথমে বজ্রাসনের ভঙ্গিতে ম্যাটের উপর বসুন। ওই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। দুই পা সে ভাবেই থাকবে। দুই হাত থাকবে শরীরের দু’পাশে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। এ বার হাত দু’টি মাথার উপরে নিয়ে যান। হাতের তালু মাটি স্পর্শ করবে। ধীরে ধীরে ঘাড় ও কোমর উপরে তুলুন। গোড়ালির উপর ভর করে দুই পা-ও তুলতে হবে। শরীরের ভঙ্গিমা হবে ঠিক উল্টোনো ‘ভি’ আকৃতির মতো। এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
কুম্ভকাসন
ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘প্ল্যাঙ্ক পোজ়’। এই ব্যায়ামটি করার জন্য প্রথমে ম্যাটে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। তার পর কনুইয়ে এবং পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে সমান্তরাল ভাবে গোটা দেহ মাটি থেকে তুলে ধরুন। এই অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।