কোলেস্টরল কি বাড়ছে? কিন্তু কতটা? রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল মানেই হৃদ্রোগের ভয়। বছরের পর বছর, কখনও বা আজীবন স্ট্যাটিন বা অন্য ওষুধ খেয়ে যাওয়া। পছন্দের খাবারে ইতি টানা। কোলেস্টেরলের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, এমন বাঙালির সংখ্যা কম নয়। ওষুধ খেয়েও যে কোলেস্টেরল কমে যায়, তা-ও নয়। ওষুধ খেতে পছন্দ করেন না যাঁরা আবার কোলেস্টেরল নির্মূল করে পছন্দের খাবারও খেতে চান, তাঁদের জন্য একটি বিকল্প উপায় ভেবেছেন গবেষকেরা। সেটি হল ‘ভার্ভ ১০২’ নামে একটি ইঞ্জেকশন। দাবি করা হয়েছে, এর এক ডোজ়ে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নির্মূল হতে পারে।
‘ভার্ভ ১০২’ কোনও সাধারণ ইঞ্জেকশন নয়। আমেরিকার ওষুধ নির্মাতা সংস্থা এলি লিলি এটি তৈরি করেছে। তারা জানিয়েছে, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নির্মূল করে ফেলতে জিনগত পর্যায়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেবল অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়াই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়। সারাজীবন স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ব্যায়াম করেও অনেকের কোলেস্টেরল বেশি। এর নেপথ্যে বংশগত কারণও থাকে। তাই কোন জিনের ত্রুটির জন্য কোলেস্টেরল এবং হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নতুন ইঞ্জেকশনটি আসলে জিন-এডিটিংয়ের একটি চিকিৎসা। এর একটি ডোজ় নিলে যে ওষুধটি ভিতরে ঢুকবে, সেটি লিভারের কোষে বদল আনবে। ত্রুটিপূর্ণ কোষগুলির অপসারণ ঘটাবে। এই ভাবে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) নির্মূল করার চেষ্টা করবে।
আরও পড়ুন:
লিভারের কোষে এক বিশেষ রকম রিসেপ্টর থাকে, যার নাম ‘এলডিএল রিসেপ্টর’। এটির কাজ হল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলকে লিভারে নিয়ে এসে ছেঁকে শরীর থেকে বার করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় ‘পিসিএসকে৯’ নামে এক বিশেষ ধরনের জিন। এটি কোলেস্টেরল ছেঁকে নেওয়ার পদ্ধতিটিকেই নষ্ট করে দেয়। ফলে এই জিনটি বেশি মাত্রায় থাকলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। নতুন ইঞ্জেকশনটি এমন ভাবে তৈরি হয়েছে, যা শরীরে গিয়ে ওই নির্দিষ্ট জিনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে। ফলে খারাপ কোলেস্টেরল জমা হওয়ার সুযোগই পাবে না। এলি লিলির গবেষকদের দাবি, ওষুধটি যেহেতু জিনগত পর্যায়ে গিয়ে গোলমাল সারাবে, তাই এর ডোজ় নিলে আলাদা করে আর ওষুধ খাওয়ার দরকার পড়বে না।
ইঞ্জেকশনটি এখনও গবেষণার স্তরে রয়েছে। বহু জনের উপর পরীক্ষা করে প্রাথমিক ভাবে সুফল পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যাঁরা ইঞ্জেকশনটি নিয়েছিলেন, তাঁদের ‘পিসিএসকে৯’ জিনের ত্রুটি সেরে গিয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমেছে ৭২ শতাংশ। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, সব ক্ষেত্রেই যদি ইঞ্জেকশনটি কার্যকর হয়, তা হলে উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব হবে।