ভেজাল খাদ্যপণ্যে রমরমা বাজার। দেশের নানা রাজ্য থেকেই ধরা পড়ছে ভেজাল খাবার। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। চিনি, দুধ, মশলা থেকে চা, কফি— রোজের খাবারের বেশির ভাগেই ধরা পড়ছে ভেজাল। কোনওটিতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক মেশানো, আবার কোনওটি পুরোপুরি ভেজাল জিনিস দিয়েই তৈরি। ভেজাল ধরতে তাই ধড়পাকড় শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। দোকান থেকে যা কিনে আনছেন, তা আদৌ খাঁটি কি না, চিনে নিতে হবে। ঘিয়ের ক্ষেত্রেও তাই। আসল গাওয়া ঘি বা খাঁটি ঘিয়ের লেবেল সেঁটে যা বিক্রি হচ্ছে, তা সত্যিই খাঁটি কি না, বুঝে যাবেন ৫ সহজ পরীক্ষায়।
হাতের তালুর পরীক্ষা
হাতের তালুতে ঘিয়ের ভেজালের পরীক্ষা করা যায়। এক চামচ ঘি হাতের তালুতে রেখে দিন মিনিট পাঁচেক। যদি ঘি হাতের তালুর গরমে গলে গিয়ে হাত থেকে গড়িয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে ঘি আসল। যদি তালুতেই লেগে থাকে, তা হলে ঘিয়ে ভেজাল রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গন্ধের পরীক্ষা
কিছুটা ঘি হাতের তালুতে নিয়ে ঘষে নিন। তার পর শুঁকে দেখুন। যদি কিছুক্ষণ পরে গন্ধ উবে যায়, তা হলে বুঝবেন, সেটা ভেজাল ঘি। কারণ আসল ঘিয়ের গন্ধ অনেকক্ষণ পর্যন্ত হাতে থেকে যায়। এমনকি জল দিয়ে হাত ধোওয়ার পরেও ঘি-এর গন্ধ যায় না।
ফ্রিজিং টেস্ট
খানিকটা ঘি গরম করে নিন। তার পর কাচের শিশিতে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। ঘণ্টাখানেক পরে যদি দেখেন কাচের শিশিতে রাখা সবটা ঘি একবারে জমে গিয়েছে, তা হলে বুঝতে হবে সেটিতে ভেজাল নেই। কিন্তু যদি দেখেন আলাদা আলাদা স্তরে ঘি জমেছে এবং স্তরগুলির রংও আলাদা, তা হলে বুঝতে হবে সেই ঘি-তে পাম অয়েল মেশানো আছে।
আয়োডিনের পরীক্ষা
সামান্য ঘি গলিয়ে তার মধ্যে ২-৩ ফোঁটা আয়োডিন সলিউশন ( যে কোনও ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়) মিশিয়ে দিন। ঘিয়ের রং যদি পরিবর্তিত হয়ে নীল বা বেগনি হয়ে যায়, তবে নিশ্চিত হবেন যে তাতে স্টার্চ বা ময়দা মেশানো হয়েছে। রং না বদলালে ঘি খাঁটি।
আগুনের পরীক্ষা
একটি কড়াই বা ধাতব চামচে এক চামচ ঘি নিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন। খাঁটি ঘি আঁচে দেওয়া মাত্রই দ্রুত গলে যাবে এবং গাঢ় বাদামি রং ধারণ করবে, সঙ্গে সুন্দর সুবাস বার হবে। ঘি যদি গলতে সময় নেয় এবং গলে যাওয়ার পর মেটে বা হালকা হলুদ রং ধরে, তবে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল রয়েছে।