পুজো আসতে আর মাত্র ক’টা দিন। ইতিমধ্যে অনেকেই ডায়েট শুরু করেছেন। লক্ষ্য একটাই, পুজোর নতুন জামায় যেন একটু রোগা, একটু ফিট লাগে। মাসখানেক হল সেদ্ধ খাবার, ওট্স, গ্রিন টি—র মতো স্বাস্থ্যকর খাচ্ছেন। তবু ওজন যেন এক চুলও নড়ছে না? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে সব পরিশ্রমই বৃথা?
ভুলটা আসলে ডায়েটে নয়, ভুলটা খিদে সামলানোর কায়দায়। অনেকেই ভাবেন কম খেলেই রোগা হওয়া যায়। আর খিদে পেলেই ডায়েট ভুলে বিস্কুট, চানাচুর, নরম পানীয়ে হাত চলে যায়। এতেই পুজোর আগের ডায়েটের বারোটা বাজে। পুজোর আগে রোগা হতে গিয়ে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সঠিক সময়ে, সঠিক স্ন্যাক্স খাওয়াটাই আসল টোটকা। ডায়েট শুরুর দিকে খিদে পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। খিদে পেলে কী ভাবে তা সামাল দেবেন, জানতে হবে সেই টোটকাই।
ডায়েটের সময়ে খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কী ভাবে?
১) ডায়েট করলে কিন্তু বেশি করে জল খেতেই হবে। এতে যেমন শরীর চাঙ্গা হয়, তেমনই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হয়। ডায়েটের মাঝে খিদে পেলেও বেশি করে জল খেয়ে নিন। এই টোটকায় খিদে অনেকটাই কমে। জল খেলে পেট ভরে যায়। শরীর থেকে টক্সিন পদার্থগুলি বেরিয়ে যায়। চাইলে বারে বারে ডিটক্স ওয়াটারও চুমুক দিতে পারেন। খাবার শুরুতেও এক গ্লাস জল খেয়ে নিলে কিন্তু পেট ভরে যায়, খুব বেশি খেতে ইচ্ছে করে না। এর ফলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২) ডায়েটে বেশি করে ফাইবার জাতীয় খাবার রাখতে পারেন। এই প্রকার খাবার খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকে। খিদে কম পায়। ওট্স, বার্লি, ফল ও শাকসব্জিতে ভরপুর মাত্রায় ফাইবার থাকে। খেতে পারেন মটর, শিম ও বিভিন্ন প্রকার ডালও।
৩) প্রোটিনও খিদে কমাতে সাহায্য করে। ডায়েট করার সময় চার ঘণ্টা অন্তর প্রোটিনে সমৃদ্ধ খাবার রাখলে তা খিদে পাওয়ার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
৪) মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকতে হবে। ডায়েট শুরু করলে অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। ফলে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এ রকম হলে কিন্তু আমরা অজান্তেই বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলি। ওজন কিছুতেই কমে না। ডায়েট শুরু করার আগে তাই মানসিক ভাবে প্রস্তুত হন। নইলে শত চেষ্টাতেও ওজন কমবে না।
৫) খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো না করাই ভাল। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাবার খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকে। খিদেও কম পায়।