দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দীপাবলি-কালীপুজো দোরগোড়ায়। নতুন শাড়ি, সাজগোজ, রাতভর প্যান্ডেল প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখা আর একের পর এক ছবি তোলা— সবই হবে! কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে পেটটা ফোলা, মুখটা কেমন নিষ্প্রভ? দুর্গাপুজোর ক্লান্তির ছাপ এখনও চোখেমুখে যেন স্পষ্ট। ক’দিনের অনিয়মে ওজনও বেড়েছে। জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর সময় নেই? আলিয়া ভট্টের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর বলছেন, দরকারও নেই। কালীপুজোর আগে এই ৩টে ছোট্ট অভ্যাস শুরু করলেই পুজোর রাতে সকলের নজর কাড়তে পারেন আপনি। ঋজুতার কথায়, ‘‘দশেরা থেকে দিওয়ালি পর্যন্ত এই ৩টে টোটকা মানলেই পেটের মেদ কমবে, ত্বকে আসবে জেল্লা আর চুলও দেখাবে দারুণ।’’
১) রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ভাতের ফ্যানের স্যুপ
ঋজুতার মতে, আলিয়া ভট্ট নিজেও নাকি এই টোটকা মেনে চলেন। তিনি নিয়মিত নৈশভোজের পর ভাতের মাড় দিয়ে তৈরি পাতলা স্যুপ খান।
কী ভাবে বানাবেন?
জলের মধ্যে ভাতের মাড় মিশিয়ে সঙ্গে একটু ঘি, স্বাদমতো নুন আর গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন, তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে স্যুপ। ঋজুতা বলছেন, রাতে হালকা কিছু, যেমন ভাকরি-চাটনি-সব্জি, রুটি-সব্জি, খিচুড়ি বা ডাল-ভাত খাওয়ার পর আধ কাপ এই স্যুপ খান। সকালে উঠে দেখবেন পেট একদম পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, ফোলা ভাব নেই, সারাদিন তরতাজা লাগবে আর ত্বকেও আসবে জেল্লা।
২. রোজ আমলকি খান
ঋজুতার মতে, এই সময় রোজ আমলকি খাওয়া ভীষণ জরুরি। দুপুরের খাওয়ার আগে বা খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন।
কী ভাবে খাবেন?
ঋজুতা বলছেন, আমলকির শরবত, আমলকির মোরব্বা বা আমলকির আচার — যেটা ভাল লাগে, সেটাই খান। শরবত খেলে প্রাতরাশ আর দুপুরের ভোজের মাঝে খান, শুকনো আমলকি হলে দুপুরে খাওয়ার পর খান। আমলকিতে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করে, তাই ত্বক টানটান থাকে, চুল পড়া কমে আর রোগপ্রতিরোধ শক্তিও বাড়ে।ঋজুতা বলেন, ‘‘অন্য কোনও খাবার থেকে এতটা ভিটামিন সি পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি অমলকি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও মিটবে।’’
৩. রোজ ৪ তলা সিঁড়ি ভাঙা
ঋজুতার মতে, ফিট থাকার জন্য এই অভ্যাসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন বসে থাকার ফাঁকে সময় পেলেই ৪ তলা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করুন।
লাভ কী?
সিঁড়ি ভাঙলে ঊরুর পেশিগুলি সক্রিয় হয়, পেট ভিতরে ঢোকে, নিতম্বের আকার ঠিক হয়, কাফ মাস্লগুলি দৃঢ় হয়। আর পিঠ, গোড়ালি, এমনকি ঘাড়ের জড়তাও কেটে যায়।